নাজীর আহম্মেদ খান | Times News 24 | Fast Online News Portal | শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
বাংলাদেশি পণ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য জার্মানি বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশে নবনিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোটজের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই তথ্য জানান। বৈঠকটি বাণিজ্য উপদেষ্টার কার্যালয়ে বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বশিরউদ্দীন বলেন, “বাংলাদেশ এবং জার্মানির মধ্যে ইতোমধ্যে চমৎকার বাণিজ্য সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা এবং দুই দেশের বাণিজ্যকে বহুমুখী করা। এর মাধ্যমে উভয় দেশ লাভবান হতে পারে।”
উপদেষ্টার তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পর জার্মানি বাংলাদেশি পণ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য। জার্মানিতে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের অংশ ১০.৯৬ শতাংশ। তিনি আরও জানান, এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা তাদের পণ্য বৈচিত্র্য বৃদ্ধির দিকে কাজ করতে পারেন।
বৈঠকে বিশেষভাবে জার্মানির আমদানিকারকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, তারা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, ওষুধ, প্লাস্টিক পণ্য, পাদুকা, সাইকেল, এবং চামড়াজাত পণ্য বেশি পরিমাণে আমদানি করুন। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করেন বশিরউদ্দীন।
জার্মান রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোটজ বৈঠকে বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়নে জার্মানি একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। আমরা চাই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে বহুমুখী করা এবং চলমান কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা। বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হচ্ছে, এবং আমরা এ প্রক্রিয়ায় পাশে থাকব।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের মধ্যে বিশেষভাবে পোশাক ও টেক্সটাইল খাত জার্মান বাজারে একটি উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছে। তবে খাদ্য, ওষুধ, এবং প্রযুক্তি খাতেও সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশ যদি রপ্তানি নীতি ও পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি করতে পারে, তবে জার্মানির বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের অংশীদারিত্ব আরও বাড়ানো সম্ভব।
অর্থনীতিবিদরা এ বৈঠককে দুই দেশের জন্যও সম্ভাবনার দিক হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, “দুই দেশের বাণিজ্য বহুমুখীকরণে আরও নতুন শিল্প, প্রযুক্তি ও উৎপাদন সংক্রান্ত বিনিয়োগ আনা সম্ভব। বিশেষ করে বাংলাদেশি হোম টেক্সটাইল, সাইকেল ও চামড়াজাত পণ্যের ক্ষেত্রে নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে।”
বাংলাদেশ-জার্মানি বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এতে রপ্তানি পণ্য বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, মানসম্মত উৎপাদন, এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা অন্যতম লক্ষ্য। বশিরউদ্দীন এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “বাণিজ্য নীতি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা দুই দেশের জন্যও লাভজনক অবস্থান তৈরি করতে পারি।”
বৈঠকের শেষে দুই পক্ষই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিক নিয়ে কাজ করতে সম্মত হন। বিশেষভাবে জার্মানি বাংলাদেশি পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে আরও সমন্বিত উদ্যোগ নেবে বলে জানানো হয়।
এই বৈঠক বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জার্মানির সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও সম্প্রসারিত করা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।