MD ANIS | Times News 24 | Fast Online News Portal | মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
দেশের সাধারণ নাগরিকদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ও প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। তাই ‘অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণই’ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের প্রধানতম মূল দর্শন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে দেশের বর্তমান সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভঙ্গুর অবস্থা থেকে একটি টেকসই ও স্থিতিশীল অবস্থায় পৌঁছাতে সরকারের অন্তত দুই বছর সময় লাগবে বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, "অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রথম দুই বছর সময় লাগবে স্থিতিশীলতা আনতে। তৃতীয় বছরটি হবে আমাদের উত্তরণের সময়, আর চতুর্থ ও পঞ্চম বছর হবে বাংলাদেশের চূড়ান্ত সমৃদ্ধির বছর।" গত সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর গ্রিন রোডে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) অডিটোরিয়ামে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) ও ইউএপির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। ‘দ্য ফিসকাল কম্পাস ২০২৬: বিয়ন্ড দ্য নাম্বার্স, শেপিং বাংলাদেশ’স ফিউচার—প্রপোজড ন্যাশনাল বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক এই সেমিনারে দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, মাত্র দেড় মাসের মতো অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে দেশের সাধারণ মানুষের আকাশচুম্বী ও উচ্চ প্রত্যাশার প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে এই বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে। এই বাজেটের অন্যতম মূল লক্ষ্য হলো—অর্থনীতিতে জনগণের বৃহত্তর অংশগ্রহণ, অন্তর্ভুক্তি এবং নতুন নতুন অর্থনৈতিক সুযোগের সৃষ্টি করা। তিনি দেশের ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’র (Creative Economy) ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও সাংস্কৃতিক সম্পদকে আধুনিক উপায়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরার বড় সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে সরকারি সহায়তায় ই-commerce প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আমাদের দেশীয় কারুশিল্প বিশ্ববাজারে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
উক্ত অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউএপির স্কুল অব বিজনেসের ডিন অধ্যাপক ড. এম এ বাকী খলিলী। তিনি বলেন, নতুন সরকারের প্রথম বাজেটকে ঘিরে দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। বাজেটের মাধ্যমে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কৌশল ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়। তবে এই বড় পরিকল্পনাগুলো যেন বাস্তবসম্মত এবং বাস্তবায়নযোগ্য হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) কাঠামোগত সংস্কার, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, বেসরকারি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, বাজেট কেবল একটি সাধারণ অর্থনৈতিক দলিল নয়, এটি সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের দিকনির্দেশনা। বাজেটের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য বাস্তবায়ন কীভাবে হবে এবং প্রয়োজনীয় অর্থ কোথা থেকে আসবে—এই প্রশ্নগুলোর স্বচ্ছ উত্তর থাকা দরকার। একই সঙ্গে তিনি সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী জোরদার করার আহ্বান জানান।
সেমিনারে অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ) উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে শিল্প খাতের চাপের কথা তুলে ধরে নীতিমালার ব্যবসাবান্ধব রূপান্তরের দাবি জানান। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম জাহান বাজেটকে ৫ বছরের উন্নয়ন কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখতে বলেন এবং তরুণদের কর্মসংস্থানে জোর দেন।
এ ছাড়া ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান ওষুধ ও রপ্তানিমুখী শিল্পে সরকারের প্রণোদনাকে ইতিবাচক আখ্যা দিয়ে বন্দর ব্যবস্থাপনার অদক্ষতা দূর করার তাগিদ দেন। অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টির আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে ইউএপির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে এম মোজিবুল হক ও ব্যাংকার মামুন রশীদসহ আরও অনেকে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার পক্ষে জোরালো মত দেন।