MD ANIS | Times News 24 | Fast Online News Portal | সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
রাজধানী মিরপুরে শিল্প ও সাহিত্যের সুপরিচিত সংগঠন ‘সৃজন’-এর কার্যালয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক প্রাণবন্ত সাহিত্য আড্ডা। একক বক্তৃতা, একক কবিতাপাঠ এবং গভীর পাঠপর্যালোচনায় মুখরিত এই আয়োজনে সমাদৃত হয়েছে কবি লুব্ধক মাহবুবের নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘জ্যোৎস্না অরণ্য’ এবং আলোচিত হয়েছে স্বাধীনতাপূর্ব বাংলাদেশের কবিতার গতি-প্রকৃতি।
অনুষ্ঠানে কবি লুব্ধক মাহবুবের ‘জ্যোৎস্না অরণ্য’ কাব্যগ্রন্থের ওপর বিশদ আলোচনা করেন বিশিষ্ট গবেষক ও গল্পকার প্রফেসর ড. আনোয়ারুল হক এবং প্রখ্যাত গবেষক প্রফেসর ড. সেলিম আকন্দ।
প্রফেসর ড. আনোয়ারুল হক তাঁর বক্তব্যে বলেন, "কবি লুব্ধক মাহবুব মূলত প্রেমের কবি। সুদীর্ঘ প্রবাসী জীবনের নানা টানাপোড়েন তাঁর কবিতার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ। ‘জ্যোৎস্না অরণ্য’ কাব্যগ্রন্থে কবির পরিণত ভাবনা ও নিখুঁত শব্দচয়নের দক্ষতা পাঠকদের ভিন্ন এক মাত্রা দেয়। দেশের বাইরে অবস্থান করেও স্বদেশের সাথে কবিতার মাধ্যমে তিনি যে গভীর সংযোগ রেখেছেন, এই বই তারই অনন্য দলিল।"
প্রফেসর ড. সেলিম আকন্দ বইটির প্রশংসা করে বলেন, "লুব্ধক মাহবুব একজন জাত কবি। এটি তাঁর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ হলেও আগের কাজের তুলনায় এখানে তিনি অনেক বেশি পরিণত। সুনির্বাচিত শব্দচয়ন, অনুপ্রাসের কাব্যময় প্রয়োগ, বক্রোক্তি ও ব্যঞ্জনাময় প্রকাশ এবং গদ্যছন্দের অনবদ্য ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি নিজস্ব একটি ভাষাশৈলী নির্মাণে সক্ষম হয়েছেন। বইটির ৮০টি কবিতার বিষয়বৈচিত্র্য এবং দীর্ঘ ৩৪ বছর প্রবাসে থাকার পরও মাতৃভূমির প্রতি গভীর মমত্ববোধ প্রতিটি চরণে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।"
আড্ডার দ্বিতীয় পর্বে ‘স্বাধীনতাপূর্ব বাংলাদেশের কবিতার গতি-প্রকৃতি’ বিষয়ে অত্যন্ত তথ্যবহুল মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক ড. কুদরত-ই-হুদা। তিনি বলেন, "১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের প্রেক্ষাপটে পূর্ববাংলার মুসলমান সমাজ ধর্মীয় চেতনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা থেকেও এতে যুক্ত হয়েছিল। চল্লিশের দশকে পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদ নিয়ে প্রচুর কবিতা রচিত হলেও ষাটের দশকে এসে বাঙালি কবিদের মধ্যে সেই মোহভঙ্গ ঘটে, যা আমাদের কবিতায় নতুন বাঁক তৈরি করে।"
অনুষ্ঠানের শেষ ভাগে কবি আরিফ মঈনুদ্দীনের একক কবিতা পাঠ অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর এই সৃষ্টিশীল কবিতাগুলো নিয়ে আলোচনা করেন কবি ও কথাসাহিত্যিক আহমেদ বাসার, নুসরাত সুলতানা এবং কবি ওয়াহিদ জামান।
আলোচকেরা উল্লেখ করেন, দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ১৮টি কাব্যগ্রন্থ রচনা করা আরিফ মঈনুদ্দীনের কবিতায় নান্দনিক শব্দচয়ন, দর্শন, মনস্তত্ত্ব ও মিস্টিক চেতনার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ রয়েছে, যা হৃদয়কে স্পর্শ করার পাশাপাশি পাঠকের মেধাকে নাড়া দেয়। অনুষ্ঠানে কবি লুব্ধক মাহবুব ও কবি আরিফ মঈনুদ্দীনসহ দেশের বহু কবি, গবেষক, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।