MD ANIS | Times News 24 | Fast Online News Portal | মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
সমাজকে সুস্থ, সুন্দর ও অনাবিল রাখতে এবং বর্তমান যুবসমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সাংস্কৃতিক চর্চার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকালে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে ‘আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান ও নৃত্যানুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুস সালাম বলেন, "একটি আদর্শ জাতি গঠনে যেমন শিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে, ঠিক তেমনি সমাজ ও শরীরকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত সাংস্কৃতিক চর্চাও অপরিহার্য।" তিনি বিশেষভাবে তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলা ও সৃজনশীল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মোবাইল ফোনের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে বর্তমান প্রজন্ম অনেকটাই সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। আমাদের ছাত্র-ছাত্রী ও কিশোর-কিশোরীরা এখন একটি মোবাইল স্ক্রিনের চারদেয়ালে বন্দি হয়ে পড়েছে। সংস্কৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম নৃত্য আজ সমাজে অনেকটাই ক্ষয়িষ্ণু অবস্থায় রয়েছে, যা কোনোভাবেই শুভ লক্ষণ নয়।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে নৃত্য ও গানসহ নানা বিষয়ে নিয়মতান্ত্রিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এসব সাংস্কৃতিক কেন্দ্রকে আরও উন্নত করা এবং তরুণদের মানসম্মত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে করপোরেশন কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি সেখানকার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মাদকের ভয়াবহতা প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যদি কোনো তরুণ বা কিশোর নিয়মিত নৃত্য, গান কিংবা খেলাধুলার সাথে যুক্ত থাকে, তাহলে মাদক তাকে কখনোই গ্রাস করতে পারবে না। তাই শুধু প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনায় সন্তানদের সীমাবদ্ধ না রেখে, তাদের ভেতরকার সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার সদস্য অধ্যাপক ড. নিগার চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্থার উপদেষ্টা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী আমানুল হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সোমা মুমতা এবং বিশিষ্ট নৃত্য পরিচালক মুনমুন আহমেদ।