MD ANIS | Times News 24 | Fast Online News Portal | মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
রাত তিনটা বাজে। বিছানায় শুয়ে ছটফট করছেন, কিন্তু চোখের পাতায় ঘুমের কোনো নামগন্ধ নেই। একবার ফোনের স্ক্রিনে চোখ রাখছেন, তো আরেকবার দেয়াল ঘড়ির দিকে। বর্তমান সময়ে এই অনিদ্রা বা ইনসোমনিয়া যেন এক নীরব মহামারি। কর্মব্যস্ততা, মানসিক চাপ, স্মার্টফোনের নীল আলো আর অনিয়মিত জীবনযাপন—সব মিলিয়ে ভালো ঘুম যেন অনেকের কাছেই এখন বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে।
অথচ ঘুমের এই জাদুকরী সমাধান লুকিয়ে আছে শহরের কংক্রিটের দেয়ালের বাইরে, প্রকৃতির এক টুকরো নির্জনতায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলছেন, একটি ছোট্ট তাবু, মাথার ওপরে তারাভরা আকাশ আর চারপাশে নিস্তব্ধতা—আপনাকে ফিরিয়ে দিতে পারে আপনার হারিয়ে যাওয়া গভীর ঘুম।
ক্যাম্পিং বা প্রকৃতির কাছে গেলে কেন ভালো ঘুম হয়? যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো বোল্ডার বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্লিপ অ্যান্ড ক্রোনোবায়োলজি ল্যাবরেটরি’-র এক গবেষণায় দেখা গেছে, কৃত্রিম আলো এবং মোবাইল স্ক্রিন মানুষের শরীরের প্রাকৃতিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান ক্লককে (Circadian Clock) মারাত্মকভাবে বিভ্রান্ত করে ফেলে। কিন্তু মাত্র কয়েকদিন প্রকৃতির মাঝে ফোন ছাড়া কাটালে মানুষের শরীরের জৈবিক ঘড়ি আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে। সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে চারপাশে অন্ধকার নেমে আসায় শরীর স্বাভাবিকভাবেই ঘুমের হরমোন ‘মেলাটোনিন’ তৈরি শুরু করে। এছাড়া প্রকৃতির সতেজ অক্সিজেন এবং পাখির ডাক, বাতাসের শব্দের মতো প্রাকৃতিক ‘স্লিপ মিউজিক’ মনকে শান্ত করে গভীর ঘুমে মগ্ন হতে সাহায্য করে।
প্রথমবার ক্যাম্পিংয়ে যাওয়ার কিছু জরুরি টিপস: ১. গাছের নিচে তাবু নয়: বৃষ্টির সময় গাছের পাতা থেকে বড় বড় ফোঁটা তাবুর ওপর পড়ে সারারাত ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তাই খোলা ও নিরাপদ জায়গায় তাবু খাটান। ২. ইনসুলেটেড কুশন ব্যবহার: মাটির ঠান্ডা যাতে সরাসরি শরীরে না লাগে, সেজন্য ভালো মানের স্লিপিং ম্যাট বা কুশন ব্যবহার করুন। ৩. ছোট পরিসরে শুরু: প্রথমবারেই দুর্গম পাহাড় বা গভীর জঙ্গলে না গিয়ে কাছাকাছি কোনো পরিচিত ক্যাম্পিং সাইটে এক রাত কাটানোর অভিজ্ঞতা নিন। ৪. মোবাইল ফোনকে ছুটি: ক্যাম্পিংয়ের আসল উপকার পেতে চাইলে স্ক্রিন-টাইম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখুন।
ঘরে বসেই ভালো ঘুম পাওয়ার সহজ উপায়: সবার পক্ষে নিয়মিত ক্যাম্পিংয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তবে গবেষকদের মতে, ঘরে কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললেই অনিদ্রা দূর করা সম্ভব:
ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে ফোন, ল্যাপটপ বা কম্পিউটার ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
দিনের বেলা শরীরকে পর্যাপ্ত সূর্যের আলোতে রাখা।
প্রতিদিন রাতে একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং সকালে নির্দিষ্ট সময়ে ওঠার অভ্যাস করা।
রাতে ঘুমানোর সময় শোবার ঘরকে যতটা সম্ভব অন্ধকার ও শান্ত রাখা।
ভালো ঘুমের জন্য সবসময় দামি গদি বা ওষুধের প্রয়োজন হয় না; কখনো কখনো প্রয়োজন হয় শুধু কৃত্রিম স্ক্রিন থেকে দূরে সরে প্রকৃতির নিয়মকে আপন করে নেওয়া।