প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ০২:১৩ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ শনিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৫ ০৯:৪১ পি.এম
মেক্সিকোতে এক সপ্তাহের ভারী বৃষ্টিপাতে ২৩ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো ঘরবাড়ি।
নাজীর আহম্মেদ খান| কালবিন্দু| মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
সংবাদ প্রতিবেদন (কালবিন্দু):
মেক্সিকো জুড়ে টানা এক সপ্তাহ ধরে চলা ভারী বৃষ্টিপাতে অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নদী-খাল উপচে পড়েছে, পাহাড়ধসে ভেসে গেছে শতাধিক ঘরবাড়ি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অবকাঠামো। শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেলে মেক্সিকোর বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, মেক্সিকোর ৩১টি রাজ্যেই কোনো না কোনোভাবে ভারী বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে। এর মধ্যে ভেরাক্রুজ, কেরেতারো, হিদালগো ও সান লুইস পোতসি অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হিদালগো রাজ্যে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় জরুরি সেবাদাতা সংস্থাগুলোর তথ্যে জানা গেছে, সেখানে ব্যাপক বন্যা ও পাহাড়ধসে অন্তত এক হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাজারো মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে।
পুয়েবলা রাজ্যে পাঁচজনের মৃত্যু ও ১১ জনের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উদ্ধারকর্মীরা এখনো নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছেন। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে।
ভেরাক্রুজে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে, আর কেরেতারো রাজ্যে বন্যা মোকাবিলায় কাজ করতে গিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃষ্টিপাত এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় ‘রেমন্ড’ (Raymond)। ঝড়টির প্রভাবে চিয়াপাস, গুয়েরেরো, ওয়াহাকা ও মিচোয়াকান রাজ্যগুলোতেও ব্যাপক বৃষ্টিপাত ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় হারিকেন কেন্দ্র (NHC) জানিয়েছে, ঝড়টি বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থান করছে এবং আগামী সপ্তাহে দক্ষিণ বাজা ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে আঘাত হানতে পারে।

দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যার কারণে বহু সড়ক এখনো বন্ধ রয়েছে, বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন আশ্রয়কেন্দ্র খুলে ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে।
হিদালগোর গভর্নর জুলিও মেনডোজা বলেছেন, “আমরা শতাধিক পরিবার হারিয়েছি, হাজারো মানুষ এখনো ঘরবাড়ি হারিয়ে দিশেহারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবক দল কাজ করছে।”
এদিকে আবহাওয়া বিভাগ সতর্ক করেছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, ফলে নদী ও খালের পানি আরও বাড়বে। কর্তৃপক্ষ উপকূলীয় জনগণকে সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
Copyright © 2026 All Rights Reserved | Siyam Creations |