নাজীর আহম্মেদ খান| কালবিন্দু| মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
শান্তিতে নোবেল জেতার মাত্র একদিন পরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন ভেনেজুয়েলার সাবেক বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। তবে আলোচনার বিষয় তার অর্জন নয়—বরং তার রাজনৈতিক অতীত, বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।
নরওয়ের নোবেল কমিটি শুক্রবার (১০ অক্টোবর) ২০২৫ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে মাচাদোর নাম ঘোষণা করে। কিন্তু পুরস্কার জয়ের পরপরই তিনি সেটি উৎসর্গ করেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে, যা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
শনিবার (১১ অক্টোবর) জর্ডানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রোয়া নিউজ এবং বিবিসি-এর প্রতিবেদনে মাচাদোর অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা তথ্য প্রকাশিত হয়।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রশংসার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক বিতর্কিত ইতিহাস। ‘কোডপিংক’-এর লাতিন আমেরিকা ক্যাম্পেইন কো-অর্ডিনেটর মিচেল এলনার, যিনি নিজেও ভেনেজুয়েলার নাগরিক, নোবেল ঘোষণার পর এক কলামে লিখেছেন—
“মারিয়ার মতো ডানপন্থিরা যখন শান্তিতে নোবেল জেতে, তখন শান্তির আসলে কোনো অর্থ থাকে না।”
তিনি উল্লেখ করেন, মাচাদো ২০০২ সালে ভেনেজুয়েলায় সংঘটিত সামরিক অভ্যুত্থানে সরাসরি সহায়তা করেছিলেন, যার ফলে নির্বাচিত সরকার সাময়িকভাবে উৎখাত হয়েছিল। তিনি ‘কারামোনা ডিক্রি’-তে স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে সংবিধান ও সব সরকারি প্রতিষ্ঠান বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছিল।
শুধু তাই নয়, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেওয়া সামরিক হামলার হুমকিকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছিলেন। ক্যারিবিয়ান সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনকেও তিনি “গর্বের সঙ্গে স্বাগত” জানিয়েছিলেন।
মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছিলেন, ভেনেজুয়েলার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে। অথচ এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ভুগেছে দেশের সাধারণ মানুষ—বিশেষত গরিব, অসুস্থ ও শ্রমজীবী শ্রেণি।
এছাড়া তিনি ইসরায়েলের প্রকাশ্য সমর্থক। শান্তিতে নোবেল জয়ের পরপরই এক ইসরায়েলি টিভি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,
“আমি প্রেসিডেন্ট হলে আমাদের দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তর করব।”
২০১৮ সালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছে এক চিঠিতে তিনি ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলার আহ্বান জানান—যাতে মাদুরো সরকারকে উৎখাত করা যায়।
বর্তমানে মাচাদো ভেনেজুয়েলার তেল, পানি ও অবকাঠামো বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছেন, যা অর্থনীতিবিদদের মতে দেশের সামাজিক বৈষম্য আরও বাড়াবে।
ভেনেজুয়েলার নাগরিকদের একাংশও প্রশ্ন তুলেছেন—যিনি নিজ দেশের জনগণের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করেছেন, বিদেশি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন, তার হাতে শান্তির প্রতীক কীভাবে যায়?