MD ANIS | Times News 24 | Fast Online News Portal | সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ থাকা ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপুল সম্পদ মুক্ত করে দিতে রাজি হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে কোনো ধরণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা সরাসরি ওয়াশিংটনের তরফ থেকে নিশ্চিতকরণ ছাড়াই ট্রাম্প এই পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে দাবি করেছেন ইরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সিনিয়র উপদেষ্টা মহসেন রেজায়ি দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর দেজফুলে একটি স্মরণসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন।
মহসেন রেজায়ি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর সাথে সংঘাতগুলো বিশ্বমঞ্চে ইরানের অবস্থানকে আরও বেশি শক্তিশালী করেছে। তেহরানের প্রতিরোধক্ষমতা এখন এমন এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে যে স্বয়ং ‘জুয়াড়ি ট্রাম্প’ এখন সরাসরি ইরানের সাথে আলোচনা টেবিলে বসতেও ভয় পাচ্ছেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতি এখন বহুলাংশে ইসরাইলি লবিস্টদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত একটি ‘জায়নবাদী শাসনের উপনিবেশে’ পরিণত হয়েছে।
রেজায়ির এই বিস্ফোরক বক্তব্যের ঠিক আগেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সংবাদমাধ্যমকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি খসড়া সমঝোতা স্মারকের প্রস্তাব এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে চলমান দীর্ঘ সংঘাতের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটবে এবং ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আলোচনার পথ আরও সুগম হবে।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকেও এই চুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক সংকেত দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ অবসানের একটি চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করছে হোয়াইট হাউস। তবে এই যুদ্ধবিরতি ও সম্পদ ছাড়ের চুক্তির বিনিময়ে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেওয়ার কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।