প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:৩২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ শনিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৫ ০৬:২৫ এ এম
ঝিনাইদহে আনারকলি চাষে সফলতা: তরুণ উদ্যোক্তা স্টালিনের নতুন সম্ভাবনা।
নাজীর আহম্মেদ খান| কালবিন্দু| মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার পান্তাপাড়া ইউনিয়নের ঘুঘরি গ্রামে বিদেশি ফল আনারকলি বা প্যাশন ফল চাষ করে দারুণ সফলতা অর্জন করেছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মাহমুদ হাসান স্টালিন। দেশের পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় কয়েক বছর আগে এই ফলটির চাষ শুরু হলেও, স্টালিন প্রথম সমতল ভূমিতে বাণিজ্যিকভাবে আনারকলি চাষ শুরু করেছেন।
স্টালিন জানান, প্রায় ৬-৭ বছর আগে তিনি কৃষিকাজ শুরু করেন। প্রথমে ৬ বিঘা জমিতে ড্রাগন, মাল্টা, পেয়ারা ও আঙুর চাষ শুরু করেন। ২০২২ সালের মাঝামাঝি প্যাশন ফলের খবর দেখে আগ্রহী হন। ওই বছরই পরীক্ষামূলকভাবে ২ শতাংশ জমিতে চাষ করেন। গত বছর বাগান থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ফল বিক্রি করেন। চলতি বছর প্রায় ১ লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছেন। গড়ে মাত্র দুই শতক জমিতে এ ফল চাষ করে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। বর্তমানে আরও আড়াই বিঘা জমিতে আবাদ শুরু করেছেন।
আনারকলি ফলের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। প্রতি পিস আনারকলি পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ ছাড়াই সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে আনারকলি ফল চাষ করা যায়। যে কারণে এর উৎপাদন খরচও কম। ফলে নেই কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি।
ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. কামরুজ্জামান জানান, ঝিনাইদহে নানা জাতের দেশি-বিদেশি ফল উৎপাদন হচ্ছে। মহেশপুরের মাহমুদ হাসান স্টালিন বিদেশি প্যাশন ফ্রুট চাষ করে দারুণ ফলন পেয়েছেন। জেলা কৃষি বিভাগ থেকে স্টালিনসহ সব কৃষককে সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক টিপু সুলতান বলেন, 'আমরা আগে এই ফল চিনতাম না। স্টালিনের বাগান দেখে অনেকেই হাসাহাসি করতো। ফল ধরার পর সবাই অবাক। প্রতিটি গাছে হাজার হাজার ফল ধরে। এই ফল কিনতে চট্টগ্রাম, বরিশাল, নোয়াখালী, খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ আসছে।'

স্টালিন আরও জানান, 'বিঘাপ্রতি আনারকলি চাষ করলে ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকার ফল বিক্রি করা সম্ভব। এই ফল পিস হিসেবে বিক্রি করা হয়। উৎপাদন খরচ খুবই কম। বর্তমানে ফল উৎপাদনের পাশাপাশি চারা উৎপাদন শুরু করেছি। অনেকেই এসে চারা নিয়ে যাচ্ছেন।'
তিনি নতুন উদ্যোক্তাদের পরামর্শ দেন, 'যারা কৃষিকাজে আগ্রহী, তারা স্টালিনের মতো নতুন প্রযুক্তি ও পদ্ধতি অনুসরণ করে সফল হতে পারেন। আনারকলি চাষে ভালো লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।'
মাহমুদ হাসান স্টালিনের সফলতা প্রমাণ করে যে, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তা মনোভাবের মাধ্যমে সমতল অঞ্চলেও বিদেশি ফল আনারকলি চাষে সফলতা অর্জন সম্ভব।
Copyright © 2026 All Rights Reserved | Siyam Creations |