নাজীর আহম্মেদ খান | Times News 24 | Fast Online News Portal | শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
কোরআন-হাদিসে জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব: আলোকিত সমাজ গড়তে শিক্ষার বিকল্প নেই
ইসলামে জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব সর্বাধিক। মুসলমানদের জন্য কেবল নামাজ, রোজা, হজ, যাকাতই নয়; বরং শিক্ষা ও জ্ঞান অনুসন্ধানও একটি বড় ইবাদত। মহান আল্লাহ এবং তাঁর প্রিয় রাসূল (সা.) উভয়েই জ্ঞানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
পবিত্র কোরআনে বহু স্থানে বিদ্যা ও জ্ঞানকে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন—
“বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না, তারা কি সমান হতে পারে?”
—(সুরা যুমার: ৯)
আবার আরেক স্থানে বলা হয়েছে—
“আল্লাহ তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যারা জ্ঞান অর্জন করেছে তাদের মর্যাদা বহু স্তর উঁচু করবেন।”
—(সুরা মুজাদালা: ১১)
এই আয়াতগুলো স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, একজন শিক্ষিত ও জ্ঞানী মুসলমান আল্লাহর কাছে বিশেষ মর্যাদাপ্রাপ্ত।
রাসূলুল্লাহ (সা.) শিক্ষা ও জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব দিয়েছেন বিভিন্ন হাদিসে।
তিনি বলেছেন—
“জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর ওপর ফরজ।”
—(ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২২৪)
আরও বলেছেন—
“যে ব্যক্তি জ্ঞানার্জনের পথে অগ্রসর হয়, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।”
—(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৯৯)
আলেমদের দৃষ্টিভঙ্গি
বিশেষজ্ঞ আলেমরা বলেন, জ্ঞান দু’ধরনের—
দ্বীনি জ্ঞান: কোরআন-হাদিস, ইসলামের বিধান, ফিকহ, আখলাক ইত্যাদি।
দুনিয়াবি জ্ঞান: বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, চিকিৎসা, অর্থনীতি ইত্যাদি।
ইসলাম উভয় প্রকার জ্ঞানের ওপর গুরুত্ব দেয়। দ্বীনি জ্ঞান মানুষকে আল্লাহভীরু করে, আর দুনিয়াবি জ্ঞান দুনিয়ার কল্যাণ বয়ে আনে।
আধুনিক বিশ্বে মুসলিম সমাজ জ্ঞান-বিজ্ঞানে পিছিয়ে পড়ায় নানা সমস্যায় জর্জরিত। অথচ কোরআন-হাদিসে জ্ঞানকে ইবাদতের পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে। ইসলামী পণ্ডিতদের মতে, আমাদের সমাজকে এগিয়ে নিতে হলে কোরআন-হাদিসের পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জ্ঞান অর্জন অপরিহার্য।