লাভলু সরকার| কালবিন্দু| মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ মোল্লা জানান, “আড়াই একর জমি আগেই পাওয়া গেছে, বাকি ১০ একরের ৮০ শতাংশ অধিগ্রহণ শেষ। আগামী সপ্তাহেই বাকি অর্থ পরিশোধ করা যাবে।” তিনি জানান, ইতোমধ্যে প্রশাসনিক ভবন, বন্দর ভবন, প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ও পরিদর্শন বাংলো নির্মাণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ২০০ মিটার তীর সংরক্ষণ কাজ প্রায় শেষ, আরও ৩০০-৪০০ মিটার পাইলিং সম্পন্ন হয়েছে।
বর্তমানে প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ২৩ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ২১ শতাংশ বলে জানান তিনি। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির অনুমোদিত ব্যয় ২৩৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। ২০২১ সালে শুরু হয়ে এর মেয়াদ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। পরবর্তীতে প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে।
চিলমারী বন্দরটি একসময় ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমারসহ অন্তত ১৫টি নদীর সংযোগস্থলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ছিল। কলকাতা, আসাম ও গৌহাটি থেকেও জলযান এখানে আসত। বর্তমানে প্রতিদিন ৫০০-৬০০ যাত্রী যাতায়াত করেন, উৎসবের সময় তা বেড়ে দাঁড়ায় ১২০০-১৫০০ জনে। মালবাহী নৌযানও নিয়মিত চলাচল করছে।
নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলায় নৌযান চলাচল সহজ হবে। ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গেও নৌ-বাণিজ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অধিগ্রহণ করা জমি থেকে বসবাসকারীদের সুষ্ঠু উচ্ছেদ। এটি সফলভাবে করা গেলে প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করা সম্ভব হবে।