নাজীর আহম্মেদ খান| কালবিন্দু| মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
কক্সবাজার প্রতিনিধি | কালবিন্দু
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভয়াবহভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ক্যাম্পে স্থাপিত ৭০০ সিসি ক্যামেরার একটিও এখন সচল নেই। ফলে অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
এরই মধ্যে প্রতিদিনই ক্যাম্পগুলোতে সন্ত্রাস, হত্যা, মাদক ও অস্ত্র কারবারের মতো নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটছে। স্থানীয় প্রশাসন ও রোহিঙ্গা নেতারাও স্বীকার করছেন—এই পরিস্থিতি এখন “নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি”।
উখিয়ার পাহাড়ি অঞ্চলের ৮ হাজার একরজুড়ে গড়ে ওঠা ৩৩টি ক্যাম্প নিয়ন্ত্রণে রাখতে সে সময় সরকার কাঁটাতারের বেড়া ও নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করে।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ক্যাম্পের বিভিন্ন অংশে কাঁটাতার কেটে তৈরি করা হয়েছে গোপন পথ, যার মাধ্যমে রোহিঙ্গারা অবাধে বাইরে যাতায়াত করছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, কাঁটাতার কেটে ফেলার পর তা আর মেরামত করা হয়নি। ফলে দুষ্কৃতকারীরা এই পথগুলো ব্যবহার করে ক্যাম্পের বাইরে যাচ্ছে এবং স্থানীয় অপরাধীদের সঙ্গে মিশে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
রোহিঙ্গা নেতারাও স্বীকার করেছেন যে, মাদক ও অস্ত্রের ব্যবসা এই ধ্বংসাত্মক তৎপরতার মূল কারণ। ক্যাম্পে প্রভাবশালী চক্রগুলো এই কারবারের নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে দলীয় সংঘাত ও সহিংসতা বাড়িয়ে তুলছে।
“রোহিঙ্গারা চুরি করে ক্যাম্প থেকে বের হয়। আমরা তাদের গ্রেপ্তার করে ফেরত পাঠাই, কিন্তু তারা আবার বের হয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।”
তিনি আরও জানান, স্থানীয়দের সহযোগিতায় অনেক রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরে অবস্থান নিচ্ছে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছে।
অন্যথায়, ক্যাম্পের ভেতরে সন্ত্রাস, অস্ত্র ও মাদক কারবার আরও ছড়িয়ে পড়বে, যা শুধু কক্সবাজার নয়—সমগ্র দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তাদের পরামর্শ, দ্রুত নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্গঠন, ক্যামেরা পুনঃস্থাপন, এবং স্থানীয় অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।