প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০২:২৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫ ১০:৫৪ এ এম
চট্টগ্রামে সাংবাদিক ও গোয়েন্দা পুলিশ সেজে ধারাবাহিক ডাকাতি, আতঙ্কে নগরবাসী
নাজীর আহম্মেদ খান| কালবিন্দু| বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
কালবিন্দু প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম:
বন্দরনগরী চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিক ও গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে সংঘটিত ধারাবাহিক ডাকাতির ঘটনায় সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছেন। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দুটি ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের পেশাদারিত্ব ও শহরের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে।
গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময়, নগরীর জাকির হোসেন সড়কের বিটিআই উইন্ডসর ভবনের চতুর্থ তলায় আমিনা বেগমের বাসায় হানা দেয় ১০ থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, দলের তিনজন নারী ছিল, যারা নিজেদের সাংবাদিক পরিচয়ে অবৈধ জিনিসপত্র তল্লাশির অজুহাতে বাসায় প্রবেশ করে।
বাসায় প্রবেশের পর তারা অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন এবং সদ্য কেনা একটি গাড়ি লুট করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ঘটনায় আতঙ্কিত এলাকাবাসী পুলিশে খবর দিলেও অভিযানের কোনো অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আমিনা বেগমের ছেলে এক সাক্ষাৎকারে বলেন,
“তারা বলেছিল তারা টিভি সাংবাদিক, আমাদের বাসায় নাকি মাদক রাখার অভিযোগ আছে। বিশ্বাস করে দরজা খোলার পরই তারা অস্ত্র দেখিয়ে সবাইকে এক রুমে আটকে ফেলে। সবকিছু লুট করে নিয়ে যায়।”
এর পরদিন শনিবার গভীর রাতে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার এক বিয়ে বাড়িতে ঘটে আরও এক ভয়াবহ ঘটনা। এবার ডাকাত দলের সদস্যরা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিচয়ে প্রবেশ করে অতিথিদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে।
তারা নববধূর গয়না, বরের উপহার, অতিথিদের কাছ থেকে প্রায় ১১ ভরি স্বর্ণ, নগদ অর্থ এবং মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নেয়। ঘটনাস্থলে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন,
“তারা বলেছিল মাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযানে এসেছে। পরে বুঝতে পারি ওরা আসলে ডাকাত। ১৫ মিনিটের মধ্যেই সব নিয়ে চলে যায়।”
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) এক কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে, ঘটনাগুলো পরিকল্পিত ও একই চক্রের কাজ হতে পারে। তবে তদন্ত চলমান দাবি করে তিনি বলেন,
“আমরা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছি। শিগগিরই জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।”
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই ধরনের ঘটনাগুলো চট্টগ্রামের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে সাংবাদিক ও পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণা বা ডাকাতির ঘটনা মানুষের আস্থাকে নড়বড়ে করে দিচ্ছে।
আইন বিশ্লেষক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো ছদ্মবেশী অপরাধের নতুন মাত্রা। সাংবাদিক বা পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে সহজেই বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
অপরাধবিজ্ঞানী অধ্যাপক মাহফুজুল ইসলাম বলেন,
“এই ধরণের অপরাধ সমাজে ভয় ও অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি করে। পুলিশ ও প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত ও প্রকাশ্য জবাবদিহিতা জরুরি।”
চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ এখন দ্রুত এই চক্রের গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তি দাবি করছেন। অনেকেই বলছেন, যদি এই অপরাধীদের উদাহরণস্বরূপ শাস্তি না দেওয়া হয়, তবে সাংবাদিক বা পুলিশের ছদ্মবেশে আরও বড় অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা বাড়বে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির এই প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা জোরদার, বিশেষ অভিযান ও নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানাচ্ছেন বিশ্লেষকরা।
Copyright © 2026 All Rights Reserved | Siyam Creations |