মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের চিরবৈরী দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্কে বরফ গলতে শুরু করেছে। সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের প্রথম দিনেই দুই দেশের মধ্যে আশাব্যঞ্জক ও বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতার। উভয় দেশই নিশ্চিত করেছে যে, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি যৌথ রোডম্যাপে (Roadmap) সম্মত হয়েছে।
পাকিস্তান ও কাতারের যৌথ মধ্যস্থতাকারী বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পারস্পরিক সংঘাত এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান লেবাননে চলমান সামরিক উত্তেজনা অবিলম্বে বন্ধ করার লক্ষ্যে একটি ‘বিশেষ সমন্বয়ক সেল’ (Special Coordination Cell) গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই বিশেষ কূটনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাত এড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা আরও জোরদার করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের হুমকি ও ইরানের সতর্ক বার্তা: এই ঐতিহাসিক বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের মিত্র সংগঠন হিজবুল্লাহকে প্রত্যক্ষ অর্থ ও অস্ত্র সমর্থনের অভিযোগ তুলে তেহরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে সুইজারল্যান্ডের টেবিলে বসার পর সুর নরম হয়েছে দুই পক্ষেরই। ইরানের প্রধান আলোচক ও শীর্ষ নেতা মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ট্রাম্পের পূর্ববর্তী বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, "দ্বিপাক্ষিক আলোচনার এই টেবিলে বসার পর যুক্তরাষ্ট্রের উচিত বৈশ্বিক গণমাধ্যমে যেকোনো ধরণের উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকা।"
লেবানন পরিস্থিতি ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ: এদিকে সুইজারল্যান্ডে এই কূটনৈতিক আলোচনা সফল হলেও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল নিয়ে মাঠপর্যায়ে নতুন করে তীব্র সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেছেন, নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার্থে প্রয়োজন হলে ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে তাদের সামরিক অবস্থান দীর্ঘ সময় অব্যাহত রাখবে। অন্যদিকে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ স্পষ্ট জানিয়েছে, বর্তমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের যেকোনো ধরণের ইহুদিবাদী প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তারা দাঁতভাঙা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
আরও পড়ুন
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফা বিধ্বংসী বিমান হামলা
আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুইজারল্যান্ডের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় এই ইতিবাচক অগ্রগতি মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই স্থিতিশীলতার এক নতুন দিগন্ত ও সোনালী আশা তৈরি করেছে। তবে লেবাননের মাঠপর্যায়ের জটিল পরিস্থিতি এবং ইসরায়েল-হিজবুল্লাহর মধ্যকার অব্যাহত পারস্পরিক অবিশ্বাস ও উত্তেজনা এখনও এই রূপান্তরকামী কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।





.jpg)












আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।