MD ANIS | Times News 24 | Fast Online News Portal | মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
বাংলা লোকসংগীতের অন্যতম কিংবদন্তি ও মরমী সাধক উকিল মুন্সীর ১৪১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বিশেষ স্মরণ অনুষ্ঠান ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার রুমে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে। সকলের জন্য উন্মুক্ত এই আয়োজনে দেখানো হবে শিল্পকলা একাডেমি প্রযোজিত জীবনভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র ‘একতারার ইমাম’।
ব্যতিক্রমধর্মী এই চলচ্চিত্রটি যৌথভাবে নির্মাণ করেছে ‘সিনেহাট’ ও ‘মোশন বাংলা’। প্রামাণ্যচিত্রটির রচনা ও পরিচালনা করেছেন বিশিষ্ট গবেষক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা অনার্য মুর্শিদ।
নেত্রকোনার বেতাই নদীর পাড়ের কালজয়ী সাধক উকিল মুন্সী ছিলেন এক অনন্য ব্যক্তিত্ব—যিনি একই সাথে একটি মসজিদের ইমামতির দায়িত্ব পালন করতেন এবং অন্যদিকে মরমী ও ভাবসঙ্গীতের এক কালজয়ী স্রষ্টা ছিলেন। তাঁর রচিত ‘আষাঢ় মাইস্যা ভাসা পানি’, ‘অপরাধী হইলেও আমি বন্ধু তর’, ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’ এর মতো অসংখ্য গান বাংলা লোকসংগীতের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে।
এই প্রামাণ্যচিত্রে উকিল মুন্সীর ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জীবনদর্শনের পাশাপাশি তাঁর সুগভীর সাংস্কৃতিক অবদানকে নান্দনিকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এতে হবিগঞ্জের রিচি দরবার শরীফের পীর সৈয়দ গোলাম মোস্তফাসহ বিভিন্ন গবেষক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা অংশ নিয়ে উকিল মুন্সীর জীবনকে শরীয়ত ও মারফতের এক অপূর্ব সহাবস্থানের বাস্তব উদাহরণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
চলচ্চিত্রটির চিত্রগ্রহণে ছিলেন পিকলু নীল, প্রভাত আহমেদ ও জন উইলিয়াম। আবহসংগীত ও শব্দ পরিচালনা করেছেন রবিউল ইসলাম শশী এবং সম্পাদনা ও রঙবিন্যাস করেছেন লায়লা ফেরদৌসী। উল্লেখ্য, উকিল মুন্সীর কোনো বাস্তব ছবি না থাকায় তাঁর বংশধর ও আত্মীয়স্বজনদের বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে প্রামাণ্যচিত্রটির অফিশিয়াল পোস্টারটি অঙ্কন করেছেন চিত্রশিল্পী এ জেড শিমুল।
চলচ্চিত্রটি উৎসর্গ করা হয়েছে প্রখ্যাত গবেষক অধ্যাপক যতীন সরকার, উকিল মুন্সীর গানের সংগ্রাহক আবু হান্নান এবং তাঁর প্রয়াত পুত্রবধূ ফুলবানুকে।
নির্মাতা অনার্য মুর্শিদ এই প্রামাণ্যচিত্র নিয়ে বলেন, "আমাদের সমাজে সংগীত এবং ধর্মীয় চর্চা নিয়ে যে ধরণের ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব ও নানামুখী প্রশ্ন রয়েছে, ‘একতারার ইমাম’ চলচ্চিত্রটি সেই বাস্তবতারই একটি চমৎকার সাংস্কৃতিক উত্তর তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।"