MD ANIS | Times News 24 | Fast Online News Portal | বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
নওগাঁর মহাদেবপুরে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীর শরীরে চরম এক অস্বাভাবিক ও বিরল শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। সমবয়সী শিশুদের যেখানে মনের আনন্দে মাঠে দৌড়ানোর কথা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার কথা, সেখানে এই বয়সেই মেয়েটির শরীরের ওজন ছাড়িয়েছে ৮০ কেজি! আর তার চেয়েও বড় বিস্ময়কর বিষয় হলো, সে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ লিটার পানি পান করছে। অতিরিক্ত ওজন আর অস্বাভাবিক এই তৃষ্ণা যেন ধীরে ধীরে থমকে দিচ্ছে তার শৈশব।
অস্বাভাবিক এই শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত সোহাগী নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের তাতারপুর গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক হাফিজুল ইসলামের ছোট মেয়ে। চার ভাই-বোনের মধ্যে সে সবার ছোট।
সোহাগীর মা হাসিনা বেগম জানান, জন্মের পর আর দশটা শিশুর মতোই সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু মাত্র ৮ মাস বয়স পার হওয়ার পর থেকেই তার শরীরে অদ্ভুত পরিবর্তন শুরু হয়। বুকের দুধ ছাড়ার পর থেকেই পানির প্রতি তার এক অস্বাভাবিক আকর্ষণ তৈরি হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই তৃষ্ণা যেন জ্যামিতিক হারে বাড়তেই থাকে। বর্তমানে দিন-রাত মিলিয়ে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লিটার পানি পান করতে হয় সোহাগীকে। অতিরিক্ত পানি পান ও মাত্রাতিরিক্ত ওজনের চাপে শরীর ফুলে উঠেছে এবং দুই পা বেঁকে গেছে। সামান্য কিছুদূর হাঁটলেই সে হাঁপিয়ে ওঠে এবং গরমে তার কষ্ট বহুগুণ বেড়ে যায়। এই শারীরিক অবস্থার কারণে বর্তমানে তার স্কুলে যাওয়া এবং সমবয়সীদের সঙ্গে খেলাধুলা করা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
অসহায় বাবা হাফিজুল ইসলাম জানান, "মেয়েকে সুস্থ করতে স্থানীয় ডাক্তার ও হাতুড়ে চিকিৎসকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। কিন্তু কোথাও কোনো সুরাহা মেলেনি। চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য বড় হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু ভ্যান চালিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালিয়ে বড় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মতো টাকা জোগাড় করা এখনো সম্ভব হয়নি।" সোহাগীর দাদি হামিদা জানান, সে স্বাভাবিক খাবার খেলেও সকালে ঘুম থেকে উঠেই একনাগাড়ে ৪ থেকে ৫ মগ পানি পান করে। দিন দিন তার শরীর আরও ভারী হয়ে উঠছে। সরকারি বা কোনো হৃদয়বান ব্যক্তির আর্থিক সহযোগিতা ছাড়া তার উন্নত চিকিৎসা করানো এই দরিদ্র পরিবারের পক্ষে অসম্ভব।
সোহাগীর এই বিরল শারীরিক সমস্যার বিষয়ে নওগাঁর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম জানান, "প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি গ্রোথ হরমোনজনিত তীব্র সমস্যা কিংবা মস্তিষ্কের কোনো জটিলতার কারণে হতে পারে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে ইতোমধ্যে তার কিছু জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা নওগাঁ সদর হাসপাতালে সম্পন্ন করানো হয়েছে। আরও উন্নত ও নিখুঁত রোগ নির্ণয়ের জন্য তাকে দ্রুত রাজশাহীতে পাঠানোর বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।"