MD ANIS | Times News 24 | Fast Online News Portal | বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
দেশের পুঁজিবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালা পরিপালনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি ইতোমধ্যে ক্লোজড-এন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডের সব ট্রাস্টিকে ক্লোজড-এন্ড স্কিমগুলোর অবসায়ন অথবা ওপেন-এন্ড ফান্ডে রূপান্তর সংক্রান্ত সদ্য প্রণীত মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিন ধরেই আস্থার সংকট চলছে, যার অন্যতম বড় কারণ মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের অনীহা। বছরের পর বছর ধরে অধিকাংশ ফান্ডের ইউনিট অভিহিত মূল্য (ফেস ভ্যালু) থেকে নিচে লেনদেন হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিএসইসি।
জানা গেছে, গত ৯ জুন বিএসইসির ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের কর্মকর্তা মো. আতিকুল্লাহ খান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৬২(২) অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। গত বছরের নভেম্বরে কার্যকর হওয়া সংশোধিত বিধিমালা অনুসারে, কোনো ক্লোজড-এন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ড যদি তার নেট অ্যাসেট ভ্যালুর (এনএভি) (ছয় মাসের চলমান গড়ের ভিত্তিতে) ২৪ শতাংশের বেশি ডিসকাউন্টে ট্রেড করে, তবে ফান্ডটিকে আইনত একটি ওপেন-এন্ডেড কাঠামোতে রূপান্তরিত হতে হবে অথবা অবসায়ন করতে হবে।
যেহেতু ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড এবং গণনার সময়সীমা গত ১২ মে শেষ হয়েছে, তাই ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি), বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিজিআইসি) এবং গ্রামীণ ফান্ডের মতো ট্রাস্টিরা এখন অবিলম্বে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নিতে আইনগতভাবে বাধ্য।
বাধ্যবাধকতা ও সময়সূচি: বিএসইসি ধাপে ধাপে একটি সময়সূচি নির্ধারণ করে দিয়েছে, যা ট্রাস্টিদের অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে:
ছয় মাসের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ট্রাস্টিদের একটি রেকর্ড ডেট ঘোষণা করতে হবে এবং তা মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) হিসেবে প্রকাশ করতে হবে।
রেকর্ড ডেট ঘোষণার পর থেকে স্টক এক্সচেঞ্জে সংশ্লিষ্ট ফান্ডের ইউনিট লেনদেন স্থগিত থাকবে।
রেকর্ড ডেটের ২১ দিনের মধ্যে একটি বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আয়োজন করতে হবে। রূপান্তর অনুমোদনের জন্য নিবন্ধিত ইউনিটধারীদের মোট ইউনিটের তিন-চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন প্রয়োজন হবে।
ইউনিটধারীরা রূপান্তরের পক্ষে ভোট দিলে ট্রাস্টিকে ৯০ দিনের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। তবে বিশেষ সাধারণ সভায় ইউনিটধারীরা রূপান্তর অনুমোদন না করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাধ্যতামূলক অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে।
আর্থিক চাপ কমাতে বিশেষ ছাড়: রূপান্তর প্রক্রিয়ার আর্থিক চাপ কমাতে বিএসইসি মোট রূপান্তর ও ইউনিট ইস্যু ব্যয় ফান্ডের আকারের ১ শতাংশে সীমাবদ্ধ করেছে। একই সঙ্গে অ্যাসেট ম্যানেজারের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। এছাড়া নতুন রূপান্তরিত ওপেন-এন্ড স্কিমগুলোর নিবন্ধন ফি সম্পূর্ণ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
উত্থিত বিতর্ক ও দ্বিমত: এদিকে, এই ফান্ড অবসায়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বিনিয়োগকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টরস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির সভাপতি এস এম ইকবাল হোসেন বলেন, ‘মিউচ্যুয়াল ফান্ড অবসায়নের বিরুদ্ধে আমি মহামান্য আদালতে রিট করেছি এবং আদালত রুল জারি করেছেন। বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন। তাই মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার দাবি জানাচ্ছি।’
তবে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগকারী অন্য একটি অংশের দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের স্বার্থে নতুন বিধিমালা বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে। এ বিষয়ে বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. আবুল কালাম বলেন, ‘বিএসইসি বিধিমালা পরিপালনের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ইতোমধ্যে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এখানে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’