MD ANIS | Times News 24 | Fast Online News Portal | সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও তামাকের ব্যবহার কমানোর পরিবর্তে তামাক শিল্পের বাণিজ্যিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যাডভোকেটস (বিটিসিএ)। সংগঠনটির দাবি, নিকোটিন পাউচ, ই-সিগারেট, ভেপ ও হিটেড টোব্যাকো পণ্যকে কর কাঠামোর আওতায় এনে কার্যত বৈধতা দেওয়ার এই আত্মঘাতী উদ্যোগ দেশের কিশোর ও তরুণ সমাজকে নতুন ধরনের নিকোটিন আসক্তির চরম ঝুঁকিতে ফেলবে।
গত শুক্রবার (১২ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ প্রেস বিবৃতিতে বিটিসিএর আহ্বায়ক ইকবাল মাসুদ এবং মডারেটর সুশান্ত সিনহা, সৈয়দা অনন্যা রহমান, ফারহানা জামান লিজা, সামিউল হাসান সজীব, আবু রায়হান ও ইব্রাহীম খলিল এসব উদ্বেগজনক মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার একদিকে ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাকমুক্ত করার অঙ্গীকার করছে, অন্যদিকে বাজেটে এমন প্রস্তাব এনেছে যা সেই মূল লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে নতুন ধরনের এই ই-সিগারেট ও নিকোটিনজাত পণ্য পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে আসলেও, সরকার সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞার ধারা প্রত্যাহার করে উল্টো কর আরোপের মাধ্যমে এগুলোকে বাজারে উন্মুক্ত ও বৈধতা দেওয়ার পথ সুগম করেছে। স্বল্পমেয়াদি রাজস্ব আয়ের এই চিন্তা ভবিষ্যতে দেশের স্বাস্থ্য খাতের ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
বিটিসিএর মতে, প্রস্তাবিত বাজেটে সিগারেটের মূল্য নামমাত্র কিছুটা বাড়ানো হলেও তা জনস্বাস্থ্যগত দৃষ্টিকোণ থেকে মোটেও যথেষ্ট নয়। দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ সিগারেট বিক্রি হয় নিম্নস্তরের বাজারে, অথচ উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই বাজারে ওই স্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়েছে মাত্র ২ টাকা, যা কার্যত কোনো প্রভাব ফেলবে না। বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে অ্যাডভেলোরেম করের পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট (স্পেসিফিক এক্সাইজ) কর আরোপের সুপারিশ করে আসলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে। ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ সম্ভাব্য রাজস্ব হারাবে এবং তামাক কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত মুনাফা লুটে নেবে।
তবে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে সিগারেটের ট্যাক্স স্ট্যাম্পে কিউআর কোড সংযুক্তকরণ, ডিজিটাল ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ এবং তামাকজাত পণ্যের কাঁচামাল সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নজরদারি বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে সংগঠনটি। অবশেষে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও সরকারের প্রতি জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবিত বাজেট পুনর্মূল্যায়ন এবং জনস্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার জোর দাবি জানিয়েছে বিটিসিএ।