MD ANIS | Times News 24 | Fast Online News Portal | সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। হৃদরোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হার্টের রিং (স্টেন্ট), চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্স এবং কিডনি ডায়ালাইসিসের বিভিন্ন চিকিৎসা উপকরণে বড় ধরণের কর ও ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের এই কল্যাণমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাজারে হার্টের প্রতিটি রিংয়ের দাম প্রায় ২০ হাজার টাকা এবং চোখের প্রতিটি লেন্সের দাম প্রায় ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে রোগীদের নিজস্ব পকেট থেকে ব্যয়ের (আউট অব পকেট এক্সপেনডিচার) হার বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় আশঙ্কাজনকভাবে বেশি। এই অতিরিক্ত খরচের বোঝা কমিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করতে সরকার বদ্ধপরিকর।"
তিনি জানান, আমদানিকৃত হার্টের রিং (স্টেন্ট) এবং চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্স সরবরাহের ক্ষেত্রে বর্তমানে আরোপিত ১০ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে হৃদরোগ ও চক্ষু রোগের চিকিৎসা ব্যয় এক ধাক্কায় অনেকটা কমে আসবে, যা রোগীদের সরাসরি আর্থিক স্বস্তি দেবে।
এর পাশাপাশি কিডনি রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হিমোডায়ালাইসিসের 'ব্লাড টিউবিং সেট' আমদানির ওপর বিদ্যমান ৭.৫ শতাংশ অগ্রিম কর (এটি) প্রত্যাহারের প্রস্তাবও করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, কিডনি রোগীদের নিয়মিত ডায়ালাইসিসের জন্য প্রতি মাসেই বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়। এই অগ্রিম কর প্রত্যাহার করা হলে ডায়ালাইসিস চিকিৎসার সামগ্রিক খরচ কমবে এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত রোগীদের আর্থিক চাপ অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদে ঘোষিত নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। যেখানে পরিচালন ব্যয় ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ৫...৭৪০ কোটি টাকা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিসহ (এডিপি) মোট উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১৬...০৭৫ কোটি টাকা। স্বাস্থ্যসেবা খাতে সরকারের এই কর-সুবিধা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা উপকরণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে এক অনন্য ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।