ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জার্মানির সুপার শপ ও খুচরা বাজারে পণ্য চুরির ঘটনা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। দেশটিতে সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সালে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও দোকান থেকে রেকর্ড ৪ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন (৪৩০ কোটি) ইউরো মূল্যের পণ্য চুরি হয়েছে, যা আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের তুলনায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।
গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) জার্মানির খ্যাতনামা বাণিজ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইএইচআই’র (EHI) বার্ষিক সমীক্ষায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘টাগেসচাও’ প্রকাশ করেছে।
কারা জড়িত এই চুরির সাথে? গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইএইচআই বলছে, চুরির এই বিশাল গ্রাফের পেছনে শুধু সাধারণ ক্রেতারাই নয়, দোকানের নিজস্ব কর্মচারী, পণ্য সরবরাহকারী (ডেলিভারি) প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সেবাদানকারী সংস্থার সদস্যরাও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। তবে সমীক্ষা অনুযায়ী, আর্থিক মূল্যের দিক থেকে চুরির জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী সাধারণ ক্রেতারূপী চোররা।
সংঘবদ্ধ চোর চক্র ও ‘সেলফ-চেকআউট’ এর নতুন ফাঁদ
আরও পড়ুন
স্বাধীনতার ২৫০ বছরে ট্রাম্পের নয়া চমক
সমীক্ষায় বলা হয়, খুচরা বাজারে চুরির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (৩৩%) সংঘটিত হয়েছে পেশাদার ও সংঘবদ্ধ চোর চক্রের মাধ্যমে। এই চক্রগুলো ক্রেতার ছদ্মবেশে মূলত দামি ব্র্যান্ডের মদ, কসমেটিকস ও প্রসাধনী সামগ্রী, নামী সুগন্ধি এবং নামী কোম্পানির শেভিং ব্লেড চুরি করে পরবর্তীতে তা খোলা বাজারে কম দামে বিক্রি করে দেয়। ইএইচআই জানায়, গত বছর শুধু কর্মচারীদের চুরির কারণে প্রায় ৯১ কোটি ইউরো এবং ডেলিভারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের অবহেলা ও চুরির কারণে প্রায় ৩৭ কোটি ইউরোর ক্ষতি হয়েছে।
এ ছাড়া ডিজিটাল যুগে আধুনিক ‘স্বয়ংক্রিয় বা সেলফ-চেকআউট কাউন্টার’ (Self-Checkout) এখন খুচরা বিক্রেতাদের জন্য বড় ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে ক্রেতারা নিজেরাই পণ্য স্ক্যান করে বিল পরিশোধ করেন, সেখানে চোররা সুকৌশলে দামি পণ্যের পরিবর্তে কম দামি পণ্যের বারকোড স্ক্যান করছে অথবা কিছু পণ্য স্ক্যান না করেই ব্যাগে ভরে প্রতারণা করছে।
রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, নেপথ্যে জীবনযাত্রার ব্যয়
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, জার্মানির ২১ হাজারের বেশি বড় বিক্রয়কেন্দ্রে এই চুরির ঘটনার কারণে সরকার প্রতি বছর প্রায় ৫৯ কোটি ইউরো মূল্যের বিশাল ‘মূল্য সংযোজন কর’ (ভ্যাট) আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশটিতে চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার লাগামহীন ব্যয় বৃদ্ধির কারণেই জার্মানিতে চুরির প্রবণতা এতটা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। সমীক্ষার প্রধান লেখক ফ্রাঙ্ক হর্স্ট বলেন, "বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে অনেক ভোক্তা ও সাধারণ কর্মচারী তীব্র আর্থিক চাপে রয়েছেন, যার নেতিবাচক প্রভাব এই চুরির রেকর্ডে স্পষ্ট।"
এদিকে জার্মান খুচরা ব্যবসায়ী সমিতি (HDE) আরও একটি ভয়ংকর তথ্য দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, দোকানে সংঘটিত প্রায় ৯৮ শতাংশ চুরির ঘটনাই অন্তরালে থেকে যায়, যা কখনো ধরা পড়ে না। আবার অনেক ক্ষেত্রে আইনি জটিলতার কারণে ব্যবসায়ীরা থানায় অভিযোগও করেন না। ফলে প্রকৃত চুরির আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৪.৩৩ বিলিয়ন ইউরোর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।




.jpg)












আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।