No Name | Times News 24 | Fast Online News Portal | শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
গাজার অবরুদ্ধ মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে ভূমধ্যসাগরে নৌপথে যাত্রাকালে আটক হওয়া আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম দেশে ফিরেছেন। শনিবার (১১ অক্টোবর) ভোর ৪টা ৫৫ মিনিটে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। বিমানবন্দরে তাঁকে বরণ করে নিতে উপস্থিত ছিলেন স্ত্রী ও মানবাধিকারকর্মী রেহনুমা আহমেদ, জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব, আলোকচিত্রী মুনেম ওয়াসিফ এবং শহিদুলের সহকর্মীরা।
গাজামুখী নৌবহরে
শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণ ছিল লক্ষ্য
শহিদুল আলম ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন’ নামে পরিচিত আন্তর্জাতিক মানবিক সংগঠনের গাজামুখী একটি নৌবহরে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন বহরের সবচেয়ে বড় জাহাজ “দ্য কনশায়েন্স”-এ। এই জাহাজে বিশ্বের ১৪০ জনের বেশি মানবাধিকারকর্মী, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীরা অবস্থান করছিলেন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল, গাজার ওপর ইসরায়েলি অবরোধ ভেঙে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করার আগেই ইসরায়েলি সেনারা ওই বহরে হামলা চালায় এবং সব যাত্রীকে আটকে নেয়। শহিদুল আলমসহ অধিকাংশ যাত্রীকে নেওয়া হয় ইসরায়েলের কুখ্যাত মরুভূমির কারাগার 'কেৎজিয়েত'-এ।
তুরস্ক হয়ে
দেশে ফেরার দীর্ঘপথ
ইসরায়েলের জেলে একাধিক দিন আটক থাকার পর, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে শহিদুল আলমের মুক্তি নিশ্চিত করা হয়। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে তিনি টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পৌঁছান। স্থানীয় সময় বেলা ২টা ২৫ মিনিটে তিনি অবতরণ করেন। ইস্তাম্বুলে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. মিজানুর রহমান তাঁকে স্বাগত জানান। এরপর সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন এবং শনিবার ভোরে দেশে পৌঁছান।
“গাজার মানুষ
এখনো মুক্ত নয়” বিমানবন্দরে শহিদুল
তিনি আরও বলেন “সারা পৃথিবী থেকে বাংলাদেশিরা যেভাবে সাড়া দিয়েছেন, দোয়া করেছেন, বাংলাদেশ সরকার ও টার্কিশ সরকার যেভাবে সাহায্য করেছে আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি যেতে পেরেছি, কিন্তু অনেকে পারেনি। আমাদের মতো আরও হাজার হাজার ফ্লোটিলা দরকার, যতদিন না ফিলিস্তিন স্বাধীন হয়।”
আন্তর্জাতিক
সহায়তা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা
শহিদুল আলম:
স্বাধীনতার কণ্ঠস্বর
আলোকচিত্রী শহিদুল আলম শুধু একটি নাম নয় তিনি বাংলাদেশের স্বাধীন সাংবাদিকতা ও নাগরিক অধিকারের সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ মুখ। তিনি দৃক গ্যালারি ও পাঠশালা মিডিয়া ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক, এবং বহু আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও গণআন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। ২০১৮ সালে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় তিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, যা নিয়ে দেশ-বিদেশে তীব্র প্রতিবাদ হয়েছিল।
গাজা অভিযানে
আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ
‘থাউজ্যান্ড ম্যাডলিনস টু গাজা’ নামের আরও একটি মানবিক অভিযানের অংশ হিসেবে শহিদুল আলম ও অন্যান্য কর্মীরা গাজা অভিমুখী হয়েছিলেন। ওই অভিযানে ৯টি জাহাজ অংশ নেয়, যাতে ছিলেন বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক, নারী অধিকারকর্মী এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্বরা। অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক মেডেলেইন হাবিব এখনো ইসরায়েলের কারাগারে আটক আছেন, যাঁর মুক্তির জন্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো কাজ করছে।
গাজার মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে নিজেই অন্যায়ের শিকার হয়েছেন শহিদুল আলম। তবে তিনি ফিরেছেন শক্ত প্রতিজ্ঞা নিয়ে “গাজা মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে।”