MD ANIS | Times News 24 | Fast Online News Portal | বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
দৈনিক কালের কণ্ঠের ধারাবাহিক ও সাহসী অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পরেই দেশবাসী প্রথমবারের মতো পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের অঢেল ও অবৈধ সম্পদের কথা জানতে পেরেছিল বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। গতকাল সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে বেনজীরের সামগ্রিক অপকর্ম ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
ব্রিফিং চলাকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া বেনজীরের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে চিফ প্রসিকিউটর ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ কালের কণ্ঠে প্রকাশিত বিখ্যাত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ‘বেনজীরের ঘরে আলাদীনের চেরাগ’-এর কিছু অংশ সাংবাদিকদের পড়ে শোনান। তিনি বলেন, "এই অকাট্য প্রতিবেদনের পরই সবাই প্রথম জানতে পারে যে সাবেক আইজিপি বেনজীর কত সম্পদের মালিক। তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের নামে দেশে-বিদেশে কত ফ্ল্যাট, কত শত শত কোটি টাকার জমি ও অবৈধ সম্পদ রয়েছে। মূলত বেনজীর আহমেদ তাঁর কর্মজীবনে হেন কোনো কুকীর্তি নেই যা করেননি।" এ সময় তিনি আরও জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে ১০টি সুনির্দিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত চলছে।
ভয়াবহ সব অপকর্মের বিবরণ: চিফ প্রসিকিউটর জানান, এক যুগ আগে ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের ঐতিহাসিক সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত নারকীয় হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মূল কুশীলব ও মাস্টারমাইন্ড ছিলেন তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ। এছাড়া, আট বছর আগে ২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর একরামুল হককে কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও বেনজীরের সরাসরি সম্পৃক্ততা ও নির্দেশনা ছিল। তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে হওয়া দেশের প্রতিটি বিতর্কিত ও প্রহসনের নির্বাচনে গণতন্ত্র নস্যাৎ করতে তিনি বিতর্কিত ভূমিকা পালন করেছিলেন।
ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া: সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ আমিনুল ইসলাম বলেন, "ইউএইর সঙ্গে আমাদের সরাসরি কোনো প্রত্যর্পণ চুক্তি (Extradition Treaty) নেই। তবে আমাদের শক্তিশালী কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ইতিমধ্যেই কূটনৈতিক চ্যানেলে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আদালতের ওয়ারেন্টগুলো দিয়ে ইউএই সরকারের কাছে তাঁকে দ্রুত ফেরত দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়েছে। দেশে ফিরিয়ে আনা মাত্রই তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হবে।"
উল্লেখ্য, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ফেডারেল ক্রাইম পুলিশের এনসিবি আবুধাবি থেকে পাঠানো এক ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর আগে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলায় ইন্টারপোলের রেড নোটিশের সহযোগিতায় দুবাই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তিনি দুবাই পুলিশের হেফাজতেই রয়েছেন।