MD ANIS | Times News 24 | Fast Online News Portal | সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
কূটনৈতিক প্রতিবেদক: লিবিয়ার রাষ্ট্রপতি ড. মোহাম্মদ ইউনুস আল-মেনফির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পরিচয়পত্র পেশ করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবিব উল্লাহ। গতকাল শনিবার (১৩ জুন) রাজধানী ত্রিপোলিতে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে তিনি এই পরিচয়পত্র পেশ করেন।
পরিচয়পত্র পেশের আনুষ্ঠানিকতা শেষে লিবিয়ার রাষ্ট্রপতির সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন নতুন রাষ্ট্রদূত। বৈঠককালে রাষ্ট্রপতি ড. মোহাম্মদ ইউনুস আল-মেনফি বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূতকে উষ্ণ স্বাগত জানান এবং লিবিয়ায় তার কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনে সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করেন।
লিবিয়ার রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের সাথে বিদ্যমান গভীর বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার বন্ধনকে আরও জোরদার করার ব্যাপারে তার দেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্ব দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের অভিন্ন স্বার্থ রক্ষা করবে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবিব উল্লাহ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে লিবিয়ার রাষ্ট্রপতি ও জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। বাংলাদেশ ও লিবিয়ার মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়ে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে বাংলাদেশ সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
রাষ্ট্রদূত আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিক লিবিয়ার জাতীয় উন্নয়ন ও যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কাজ করছেন। বিশেষ করে দেশটির অবকাঠামো নির্মাণ, সেবা খাত এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে বাংলাদেশিরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।
দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে উভয় নেতা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা, জনশক্তি রপ্তানি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এছাড়া তারা রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে মতবিনিময় করেন এবং জাতিসংঘ, ওআইসি (OIC) ও অন্যান্য বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক সংস্থার প্ল্যাটফর্মে একযোগে কাজ করার ব্যাপারে একমত পোষণ করেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশের প্রতি লিবিয়ার ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য লিবীয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান রাষ্ট্রদূত।
পরিশেষে, বাংলাদেশ-লিবিয়া সম্পর্ক আগামীতে আরও সুদৃঢ় অংশীদারত্ব এবং পারস্পরিক সহযোগিতার এক নতুন দিগন্তে পদার্পণ করবে—এমন আশাবাদের মধ্য দিয়ে দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকটি সফলভাবে শেষ হয়।