MD ANIS | Times News 24 | Fast Online News Portal | মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
বরিশালের বাবুগঞ্জে এক বালু ব্যবসায়ীর কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয় বিএনপির দুই নেতার সাংগঠনিক সব পদ স্থগিত করেছে দলটির তৃণমূল প্রশাসন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) চাঁদপাশা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান জাকির মোল্লা এবং একই ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুর রাজ্জাক মোল্লার পদ স্থগিত করে নোটিশ জারি করে ইউনিয়ন বিএনপি।
চাঁদা দাবি, ফাঁদ ও গণপিটুনির শিকার: এর আগে গত সোমবার (১৫ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের রেইনট্রিতলা এলাকায় চাঁদা দাবিকে ঘিরে চরম উত্তেজনা তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতার হাতে বিএনপির ওই দুই নেতা গণপিটুনির শিকার হন। পরবর্তীতে ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো অপকর্মে জড়াবেন না মর্মে স্থানীয়দের কাছে লিখিত মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পান তারা। এই ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদপাশা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান জাকির মোল্লা একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বালু ব্যবসায়ী ও ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মো. জহিরুল ইসলামের কাছে দীর্ঘদিন ধরে বালু ব্যবসা নির্বিঘ্নে পরিচালনা করার জন্য ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে উভয়ের মধ্যে কয়েকদিন ধরে চাপা ক্ষোভ ও আলোচনা চলছিল। সোমবার রাতে ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম টাকা দেওয়ার কথা বলে জাকির মোল্লাকে রেইনট্রিতলা এলাকায় ডেকে আনেন। নির্ধারিত সময়ে জাকির মোল্লা তার সহযোগী আব্দুর রাজ্জাক মোল্লাকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা একদল লোক তাদের চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে এবং উত্তম-মধ্যম দিয়ে আটকে রাখে।
দলের কঠোর অবস্থান ও অভিযুক্তের দাবি: চাঁদপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন (স্বপন) ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন হোসেন স্বাক্ষরিত স্থগিতাদেশের নোটিশে বলা হয়েছে, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপরাধে দুই নেতাকে বিএনপির সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হলো। পাশাপাশি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদেরও তাদের সাথে যেকোনো প্রকার যোগাযোগ রক্ষা করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।
তবে চাঁদাবাজির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে মেহেদী হাসান জাকির মোল্লা দাবি করেন, "আমি কোনো চাঁদা দাবি করিনি। মূলত ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করার একটি প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে রাজনৈতিকভাবে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।"
এ বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলমগীর হোসেন স্বপন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, "বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কখনো চাঁদাবাজি কিংবা কোনো চাঁদাবাজকে প্রশ্রয় দেয় না। দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ এ ধরনের অপকর্মে জড়িত থাকলে তার কোনো ছাড় নেই।" বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ খান জানান, তিনি বর্তমানে সাংগঠনিক কাজে ঢাকায় থাকলেও ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে দেখছেন এবং তদন্ত সাপেক্ষে পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।