দেশের পশুবাজারে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা এবং নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হওয়া সেই বিখ্যাত ‘অ্যালবিনো’ (ধলা) মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে রাজধানীর মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে সাভারের বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে (BLRI) স্থানান্তর করা হয়েছে। বিশেষ বৈজ্ঞানিক গবেষণার লক্ষ্যে গত রোববার (২১ জুন) রাত ৯টার দিকে উচ্চ সুরক্ষায় মহিষটিকে সাভারে নেওয়া হয়। বর্তমানে কড়া প্রাতিষ্ঠানিক পর্যবেক্ষণের জন্য মহিষটিকে একটি বিশেষ কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মহিষটিকে হঠাৎ হস্তান্তরের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, "আমাদের বিশেষজ্ঞ ভেটেরিনারি ও নিউট্রিশন বোর্ডের সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ছিল যে, যেহেতু এটি একটি বিরল জাতের ও অত্যন্ত আকর্ষণীয় গবেষণাযোগ্য বিষয়, তাই মহিষটিকে দেশের সর্বোচ্চ প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পাঠানোই উত্তম। এই মহিষের শারীরিক গঠন ও জিনগত রূপান্তর নিয়ে বেশকিছু বৈজ্ঞানিক গবেষণার নতুন সুযোগ রয়েছে।"
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, এই বিরল অ্যালবিনো মহিষটির মধ্যে এমন কোনো বিশেষ জিনগত (Genetic) বা অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্য লুকিয়ে আছে কি না, যা ভবিষ্যতে আমাদের দেশের সামগ্রিক মহিষের জাত উন্নয়নে ও মাংস-দুধ উৎপাদনে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে; তা দীর্ঘমেডিট গবেষণার মাধ্যমে জানা যাবে।
এদিকে বিএলআরআই (BLRI) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নির্দেশনায় আনুষ্ঠানিকভাবে মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মহিষটির বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও পরবর্তী উচ্চতর গবেষণার রোডম্যাপ তৈরির লক্ষ্যে বিএলআরআই-এর মহিষ উৎপাদন গবেষণা বিভাগের প্রধান ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা গৌতম কুমার দেবকে প্রধান করে ১৩ সদস্যের একটি শক্তিশালী বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
যেহেতু প্রাণীটি এতদিন চিড়িয়াখানার উন্মুক্ত ও দর্শনার্থীদের পরিবেশে ছিল, তাই জৈব-নিরাপত্তার স্বার্থে মহিষটিকে প্রাথমিকভাবে ১৪ থেকে ২১ দিনের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা করে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের প্রধান লক্ষ্য হলো মহিষটি কোনো ছোঁয়াচে রোগ বা ভাইরাসমুক্ত কি না, তা ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে শতভাগ নিশ্চিত করা। কোয়ারেন্টাইনের এই নির্দিষ্ট সময়ে মহিষটির দৈনন্দিন স্বাস্থ্য, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং প্রজনন উপযোগিতা (Breeding Capacity) গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং এটি সফলভাবে শেষ হওয়ার পরই মহিষটিকে মূল গবেষণাগারে স্থানান্তর করা হবে।
বিএলআরআই-এর বিজ্ঞানীরা একটি বিশেষ চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে জানান, এই মহিষটিকে মূলত কোরবানির হাটের জন্য 'ফ্যাটেনিং' বা কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজাকরণের ডায়েটে প্রস্তুত করা হয়েছিল। অতিরিক্ত চর্বি ও ওজনের কারণে দীর্ঘমেয়াদে এই ধরনের প্রাণীকে প্রজনন গবেষণার জন্য সুস্থ ও সক্রিয় রাখা কিছুটা কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। তাই পর্যবেক্ষণের এই প্রাথমিক সময়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।