রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে এক ঐতিহাসিক ফলাফল অর্জন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ. নজরুল ইসলাম চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন। এতে দেখা যায়, রাকসুর মোট ২৩টি পদের মধ্যে ২০টিতেই জয় পেয়েছে শিবির সমর্থিত এই জোট।
নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২৮ হাজার ৯০১। এর মধ্যে ছাত্র ভোটার ১৭ হাজার ৫৯৬ জন এবং ছাত্রী ভোটার ১১ হাজার ৩০৫ জন। ভোট পড়েছে মোট ৬৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ, যার মধ্যে নারী হলে ভোটের হার ছিল ৬৩ দশমিক ২৪ শতাংশ।
ভিপি (সভাপতি) পদে সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদ সর্বোচ্চ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। সহ-সভাপতি পদেও জোটের প্রার্থী জয় পেয়েছেন। তবে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে জয় পেয়েছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী সালাহউদ্দিন আম্মার, যিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক হিসেবে পরিচিত।
ক্রীড়া সম্পাদক পদে জয় পেয়েছেন জাতীয় নারী ফুটবলার ও ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী নার্গিস খাতুন, যিনি তার প্যানেল থেকে একমাত্র নির্বাচিত প্রার্থী। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী তোফায়েল আহমেদ তোফা।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞানী বানানোর বিনিয়োগ করে প্রশাসনিক অফিসার বানাতে চাই না
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে জয়ী প্রার্থীরা:
-
সাংস্কৃতিক সম্পাদক: জাহিদ হাসান জ্বোহা
-
সহকারী সাংস্কৃতিক সম্পাদক: রাকিবুল ইসলাম
-
সহকারী ক্রীড়া সম্পাদক: আবু সাঈদ নাঈম
-
নারী বিষয়ক সম্পাদক: সাঈদা হাফসা
-
সহকারী নারী বিষয়ক সম্পাদক: সামিয়া জান্নাত
-
তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক: নাজমুস সাকিব
-
সহকারী সম্পাদক: সিফাত আবু সালেহ
-
মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক: মুজাহিদুল ইসলাম
-
সহকারী সম্পাদক: আসাদুল্লাহ হিল গালিব
-
বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক: ইমরান লস্কর
-
সহকারী সম্পাদক: নয়ন মুরসালিন
-
পরিবেশ ও সমাজসেবা সম্পাদক: আবদুল্লাহ আল মাসুদ
-
সহকারী সম্পাদক: মাসুমা ইসলাম মোমো
-
কার্যনির্বাহী সদস্য: দ্বীপ, সুজন চন্দ্র, ইমজিয়াউল আলি ও খালিদ হাসান
নির্বাচনের দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি ভবনের ১৭টি কেন্দ্রে ১৭ হলের শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রদান করেন। যদিও ভোটের দিন কিছু কেন্দ্রে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ওঠে, তবুও সার্বিকভাবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ছিল বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
রাতে সাড়ে ৮টার দিকে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ভোট গণনা শুরু হয় এবং রাত সাড়ে ১০টার দিকে নারী হলের ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
এই নির্বাচনে ১০টি প্যানেলের ২৪৭ জন প্রার্থী রাকসুর ২৩টি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এছাড়া ১৭টি হলে ৫৯৭ জন প্রার্থী হল সংসদে অংশ নেন এবং সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনে ৫৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ফলাফল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতিতে একটি নতুন মোড় এনেছে। ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত জোটের এই ব্যাপক বিজয়কে তারা ‘ঐতিহাসিক ও প্রতীকী পরিবর্তনের সূচনা’ হিসেবে দেখছেন।















আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।