দেশে সোনার দামে নতুন রেকর্ড: ভরি প্রতি দাম ২ লাখ ৭২৬ টাকা
বাংলাদেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হয়েছে সোনার দাম, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। এবার ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭২৬ টাকা। আগের দাম থেকে প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ১৫০ টাকা বেড়েছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী বা পাকা সোনার মূল্যবৃদ্ধির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) থেকে নতুন দামের কার্যকারিতা শুরু হবে। সোমবার (৬ অক্টোবর) বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির বৈঠকে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয় এবং পরে কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে তা জানানো হয়।
মাত্র একদিন আগেই, অর্থাৎ ৫ অক্টোবর, ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৭৬ টাকা। সেটিই ছিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম। কিন্তু মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও সেই রেকর্ড ভেঙে গেল।
আরও পড়ুন
ভরিতে সাড়ে ৫ হাজার টাকা কমল সোনার দাম
এবার ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ১৫০ টাকা বেড়ে নতুন দাম দাঁড়াল ২ লাখ ৭২৬ টাকা। একইভাবে ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট ও সনাতন পদ্ধতির সোনার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।
| ক্যারেট | আগের দাম (৫ অক্টোবর) | নতুন দাম (৭ অক্টোবর থেকে) | বৃদ্ধি |
|---|---|---|---|
| ২২ ক্যারেট | ১,৯৭,৫৭৬ টাকা | ২,০০,৭২৬ টাকা | ৩,১৫০ টাকা |
| ২১ ক্যারেট | ১,৮৮,৫৯৫ টাকা | ১,৯১,৬০৫ টাকা | ৩,০১০ টাকা |
| ১৮ ক্যারেট | ১,৬১,৬৫১ টাকা | ১,৬৪,২২৯ টাকা | ২,৫৭৮ টাকা |
| সনাতন পদ্ধতি | ১,৩৪,২৫৩ টাকা | ১,৩৬,৪৪৫ টাকা | ২,১৯২ টাকা |
রুপার দাম অপরিবর্তিত
-
২২ ক্যারেট রুপা: ৩,৬২৮ টাকা প্রতি ভরি
-
২১ ক্যারেট রুপা: ৩,৪৫৩ টাকা প্রতি ভরি
-
১৮ ক্যারেট রুপা: ২,৯৬৩ টাকা প্রতি ভরি
-
সনাতন পদ্ধতির রুপা: ২,২২৮ টাকা প্রতি ভরি
সোনার দাম বৃদ্ধির পেছনে অন্যতম কারণ বিশ্ববাজারে চলমান অস্থিরতা ও ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন। আন্তর্জাতিক বাজারে সম্প্রতি প্রতি আউন্স সোনার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২,৪০০ মার্কিন ডলার—যা এক দশকের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ।
এ অবস্থায় বাংলাদেশেও স্থানীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা তেজাবী সোনার দাম বৃদ্ধি লক্ষ করেন। বাজুসের সূত্র জানায়, তারা প্রতি দুই থেকে তিন দিন অন্তর আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা পর্যবেক্ষণ করে স্থানীয় বাজারে দাম সমন্বয় করে থাকে।
সোনার এই লাগাতার মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জুয়েলারি মার্কেটে গিয়ে জানা যায়, নতুন দামের কারণে সোনার ক্রয় কমে গেছে উল্লেখযোগ্য হারে।
বিক্রেতা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন,
“প্রতিদিনই দাম বাড়ছে, ফলে ক্রেতারা দ্বিধায় পড়ছে। যারা বিয়ের বা বিশেষ উপলক্ষের জন্য সোনা কিনতে চান, তারাও এখন অপেক্ষায় আছেন দাম কমার।”
অন্যদিকে বাজুসের কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দেশেও দ্রুত দাম কমানো হবে।
বাজুসের চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান বলেন,
“আমরা আন্তর্জাতিক বাজার, মুদ্রা বিনিময় হার এবং তেজাবী সোনার মূল্য বিবেচনা করেই দাম নির্ধারণ করি। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারেও সামঞ্জস্য আনা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, “বাংলাদেশে স্বর্ণ আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা বেশি হওয়ায় বিশ্ববাজারে সামান্য ওঠানামাতেও দেশীয় দামে প্রভাব পড়ে।”
অর্থনীতিবিদদের মতে, সোনার ক্রমবর্ধমান দাম মুদ্রাস্ফীতির একটি সূচক। অনেকেই সোনা কেনাকে এখন বিনিয়োগের বিকল্প হিসেবে দেখছেন, যা অর্থনীতিতে “সেফ অ্যাসেট ইফেক্ট” হিসেবে পরিচিত।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. আসিফ আহমেদ বলেন,
“যখন মানুষ টাকার মান নিয়ে অনিশ্চিত থাকে, তখন তারা সোনায় বিনিয়োগে আগ্রহী হয়। এই ধারা চলতে থাকলে স্থানীয় বাজারে সোনার চাহিদা আরও বাড়বে।”
দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সোনার দাম ভরিপ্রতি ২ লাখ টাকার মাইলফলক অতিক্রম করেছে। একদিকে এটি আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবের প্রতিফলন, অন্যদিকে স্থানীয় মুদ্রা বাজারের চাপেরও ইঙ্গিত।
সোনার দাম আরও বাড়বে নাকি স্থিতিশীল হবে—তা নির্ভর করছে বৈশ্বিক বাজারের গতিপ্রকৃতি ও ডলারের মূল্যের ওপর। তবে আপাতত দেশের ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা নতুন রেকর্ডমূল্যের সোনার বাজারে এক ধরনের সতর্ক অপেক্ষায় আছেন।
সূত্র: কালবিন্দু নিউজ ডেস্ক

















আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।