শিরোনাম :
মেসির বিশ্বরেকর্ডে পরীমণির ‘ইমোজি রহস্য’ ঢাকার নতুন মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবির প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের মামলা এন সি পি নেতার ইরাককে উড়িয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে ফ্রান্স বিশ্বকাপের শেষ ৩২ নিশ্চিত আর্জেন্টিনার মমতা-অভিষেককে সরিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিল বিদ্রোহীরা ইরানের ১২০০ কোটি ডলার ছাড় করছে আমেরিকা ১৭ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি মেটাতে ভরসা চীনা এফডিআই অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণই নতুন বাজেটের মূল দর্শন ফেনীতে অটোরিকশার ধাক্কায় গুরুতর আহত এনসিপি নেতা জুবায়ের আজ বিজয়নগরে ১১ দলের সমাবেশ মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের দালিয়ানে প্রধানমন্ত্রী চিড়িয়াখানা থেকে সাভারে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রাথমিক শিক্ষায় আমূল পরিবর্তন অর্ধেক’ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামবে ইরান বেলজিয়ামের বিপক্ষে আজ রাতে ঢাবিতে আসছেন আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিদল ও রাষ্ট্রদূত মেসিদের স্টাইলে পরীমণির বিশ্বকাপ মেগা সেলিব্রেশন ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এ আর্জেন্টিনা বনাম ব্রাজিলের রণক্ষেত্র হোলি ওয়াটার’ স্ক্যান্ডাল ধ্বংসস্তূপের মাঝে ফুটবলের আলো গাজাতে

ধ্বংসস্তূপের মাঝে ফুটবলের আলো গাজাতে

  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬ ১২:১১ পি.এম
  • ৮ বার পড়া হয়েছে
  • 9 মিনিটের পড়া
  • 0 বার শেয়ার
ধ্বংসস্তূপের মাঝে ফুটবলের আলো গাজাতে
খবর প্রিন্ট করুন এই নিউজের লিঙ্ক কপি করুন
Copied!

চারদিকে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের ক্ষত, ধূলিসাৎ হওয়া বহুতল ভবন আর স্বজন হারানোর সীমাহীন হাহাকার। এই চরম ও নির্মম বাস্তবতার মাঝেই ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার একটি স্থানীয় বাজারে সবার স্থির দৃষ্টি আটকে আছে সচল থাকা একটি উজ্জ্বল পর্দার দিকে। পর্দায় চলছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের একটি বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচ। নিউজিল্যান্ড ও মিশরের মধ্যকার সেই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি দেখতে ধ্বংসস্তূপের মাঝেই ভিড় জমিয়েছেন শত শত যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনি ফুটবলপ্রেমী। গাজার মানুষের কাছে মিশরের অধিনায়ক ও বিশ্বখ্যাত স্ট্রাইকার মোহাম্মদ সালাহ এক জীবন্ত কিংবদন্তি। আর প্রিয় তারকার ম্যাচটিতে নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সালাহরা জয় পেতেই গাজায় বইছে সাময়িক আনন্দের হাওয়া।

মিশরের হয়ে এই জয়ে এক গোল এবং চমৎকার একটি অ্যাসিস্ট করেছেন সালাহ। বাকি দুই গোল করেছেন মোস্তফা জিকো ও ট্রেজেগুয়েত। এর আগে ফিন সারম্যানের গোলে নিউজিল্যান্ড প্রথমার্ধে লিড নিলেও তা ধরে রাখতে পারেনি। প্রিয় দলের বিজয়ের পর গাজার ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে উৎসবের যেন কমতি নেই; অনেকেই বন্ধুর কাঁধে চড়ে মিশরের পতাকা উড়িয়ে উল্লাস করছেন। গাজার মধ্যাঞ্চলের জনবহুল নুসেইরাত এলাকার এই ধ্বংসস্তূপের মাঝে মানুষের মুখে ক্ষণিকের হাসি ফুটলেও, তাদের চারপাশের প্রতিদিনের বাস্তবতা বড়ই কঠিন। দুই বছর ধরে চলা ইসরায়েল-হামাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ আজ গাজাকে এক বিশাল মানববর্জিত ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে।

ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (PFA) অন্যতম সদস্য মোস্তফা সিয়াম বলেন, "গাজাবাসীর জন্য বিশ্বকাপ কেবল একটি সাধারণ খেলা বা বিনোদন নয়। ফুটবল ম্যাচের এই ৯০ মিনিটের চরম উত্তেজনা তাদের চারপাশের সীমাহীন যন্ত্রণা, মৃত্যুভয় আর তীব্র মানসিক উদ্বেগ থেকে ক্ষণিকের জন্য হলেও এক পশলা সাময়িক মুক্তি দেয়।"

তাঁবুর নিচে বিশ্বকাপ ও অবরুদ্ধ জীবনের দীর্ঘশ্বাস

মধ্য গাজার আল-জাওয়াইদার একটি বাস্তুচ্যুতদের শিবিরে গিয়ে দেখা যায় আরও মর্মস্পর্শী দৃশ্য। প্লাস্টিকের ত্রিপলের তৈরি তাঁবুর নিচে ছোট একটি জেনারেটর-চালিত টেলিভিশন ঘিরে ধুলাবালির মেঝে আর ভাঙা প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে মানুষ উপভোগ করছেন বিশ্বকাপের ম্যাচ। সেখানে খেলা দেখতে আসা ঈদ আল-আত্তার আক্ষেপ করে বলেন, "আমরা সাধ্যমতো বিশ্বকাপের স্বাদ নেওয়ার চেষ্টা করছি। স্টেডিয়ামে গিয়ে সরাসরি প্রিয় দলের ম্যাচ দেখা আমাদের জন্য আজীবন এক অধরা স্বপ্ন, কারণ আমরা চারপাশ থেকে অবরুদ্ধ। ইসরায়েলের কঠোর নিয়ন্ত্রণে থাকা এই অবরুদ্ধ ভূখণ্ড থেকে মারাত্মক কোনো অসুস্থতায় বিশেষ চিকিৎসা ছাড়া বাইরে যাওয়ার কোনো আইনি উপায় নেই।"

গাজা সিটির ২৭ বছর বয়সী যুবক মাজেন আল-গুল বিশ্বকাপের বর্ণিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, "গোটা বিশ্ব যখন ফুটবলের আনন্দে মেতে উঠেছে, তখন আমাদের নিজের কোনো মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, বিদ্যুৎ নেই, চিকিৎসার সুযোগ নেই, স্কুল নেই। বিশ্বের এই নির্মম বৈষম্য আমাদের ভেতর এক তীব্র ক্ষোভ ও চরম হতাশা তৈরি করে।" অনেকেই ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সোনালী স্মৃতিচারণ করেন, যখন গাজা সিটির বড় বড় স্টেডিয়াম আর ঝলমলে রেস্তোরাঁয় হাজার হাজার মানুষ একসাথে খেলা উপভোগ করতেন। আজ সেই স্টেডিয়াম বা রেস্তোরাঁর কোনো অস্তিত্ব নেই; সবই ইসরায়েলি বিমান হামলায় মাটির সাথে মিশে গেছে।

খান ইউনিসের সমুদ্র সৈকতে ‘অন্য এক বিশ্বকাপ’

ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে বিশ্ব মিডিয়ার মূল আলোচনার একদম বাইরে, দক্ষিণ গাজার প্রধান শহর খান ইউনিসের বিস্তীর্ণ সমুদ্র সৈকতে চলছে ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব অন্য এক বিশ্বকাপ। সেখানে তপ্ত বালির ওপর বুট ছাড়া সম্পূর্ণ খালি পায়ে ফুটবল খেলছে একদল যুদ্ধাহত ও বাস্তুচ্যুত তরুণ।

তাদের স্থানীয় ফুটবল কোচ মোহাম্মদ আবু তাহ আবেগঘন কণ্ঠে জানালেন, "এই প্রতিকূলতায় ফুটবলই আমাদের মানসিকভাবে বেঁচে থাকার একমাত্র প্রধান চালিকাশক্তি ও মুক্তি।" তাঁর সহকর্মী জাবের আল-বাশিটি যোগ করেন, "আমাদের এই ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে ধ্বংসপ্রাপ্ত এক রক্তাক্ত মাটিতে। যেখানে কোনো আধুনিক গ্যালারি নেই, নেই কোনো উন্নত সরঞ্জাম। কিন্তু ভাঙা কনক্রিটের ব্লকে বসে খেলা দেখা দর্শকদের ফুটবল ও জীবনের প্রতি ভালোবাসার বিন্দুমাত্র কোনো অভাব নেই।" গাজার এই সাহসী তরুণরা ফুটবলকে অস্ত্র বানিয়ে যেন বিশ্বকে জানান দিচ্ছে—সব হারিয়েও তারা এখনও বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখে।

অনুমোদন করেছেন: টাইমসনিউজ২৪.কম ডেস্ক - এডমিন

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

আপনার প্রতিক্রিয়া

মন্তব্য করতে লগইন করুন

এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।

সম্পর্কিত সংবাদ
আজকের নামাজের সময়সূচি
Loading date...
Detecting location...
জোহর
বেলা
--:--
আসর
বিকেল
--:--
মাগরিব
সন্ধ্যা
--:--
ইশা
রাত
--:--
ফজর
ভোর
--:--
আজ সূর্যাস্ত - --:--
আগামীকাল সূর্যোদয় - --:--
Loading next prayer...

রাশিফল দেখুন এক ক্লিকে

কোনো সক্রিয় ভোট নেই।

Times News 24
Total Visitors
Today: