বোয়ালমারী
(ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার রূপাপাত ইউনিয়নের টুংরাইল গ্রামে ১৭টি বাড়িতে যাতায়াতের
একমাত্র ভরসা বাঁশ ও
কাঠের তৈরি ১৯টি সাঁকো।
যুগ যুগ ধরে এই
সাঁকোই স্থানীয়দের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম।
সরেজমিনে দেখা যায়, টুংরাইল বিলের পাড়ঘেঁষে গড়ে ওঠা গ্রামটিতে একের পর এক বাঁশের সাঁকো পার হয়ে পৌঁছাতে হয় প্রতিটি বাড়িতে। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে টুংরাইল কদমী কুমার নদী, যার উপরেই তৈরি এসব সাঁকো। নদীর দুই পাশে বিস্তৃত বিল—বর্ষাকালে প্রায় পুরো এলাকা জলে ডুবে থাকে।
কুমার নদীটি কালিনগর বাউড়ের সঙ্গে মিশে গেছে। মাঝকান্দি–ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে বনমালীপুর বাইপাস সড়ক হয়ে নদীর ধারে চলে গেছে কদমী পাকা সড়ক। এই নদীর ধারেই টুংরাইল গ্রামের সাঁকোগুলোর অবস্থান। সাঁকো দিয়ে স্থানীয়রা সারাবছরই পারাপার করেন।
রূপাপাত ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও টুংরাইল গ্রামের বাসিন্দা মো. মিরাজ মোল্যা বলেন,
“আমাদের টুংরাইল গ্রামটা বিলের ভেতরে। পাশে কুমার নদী, আর চারপাশে পানি। ১৭টি বাড়ির জন্য ১৯টি সাঁকো আছে। অনেক সময় একই জায়গায় দুইটা সাঁকো করা হয়েছে—নিজেদের মধ্যে ঝামেলার কারণে। প্রতিটি পরিবার নিজের খরচেই সাঁকো বানায় ও মেরামত করে। সরকারি বরাদ্দ খুবই সীমিত, প্রায় নেই বললেই চলে।”
তিনি আরও জানান, বর্ষাকালে প্রায় সব বাড়ির চারপাশেই পানি ওঠে। তখন সাঁকো ছাড়া বিকল্প পথ থাকে না; কেউ কেউ নৌকা ব্যবহার করেন।
রূপাপাত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান মোল্যা বলেন,
“ছোটবেলা থেকেই টুংরাইল গ্রামে এত সাঁকো দেখছি। এ কারণেই গ্রামটা ‘সাঁকোর গ্রাম’ নামে পরিচিত। বর্ষায় এখানে বাড়িগুলোর চারপাশে পানি ওঠে, তাই মানুষ সাঁকো বানিয়ে জীবনযাপন করে। আগে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মাঝে মধ্যে একটা–দুটো সাঁকোর জন্য বরাদ্দ দিতাম, কিন্তু এখন সেটাও নেই।”
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।