রাজশাহী শহর খ্রিস্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে চরম অব্যবস্থাপনা, অর্থ আত্মসাৎ, আর্থিক তথ্য জালিয়াতি, অডিট প্রতিবেদন টেম্পারিং এবং জাল সনদের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নিয়ে চাকরি দেওয়ার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন সমিতির সাধারণ সদস্যরা।
গত বুধবার (১৭ জুন) সকালে রাজশাহী শহর খ্রিস্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের কার্যালয় প্রাঙ্গণে সাধারণ সদস্যদের ব্যানারে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। উক্ত প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির জ্যেষ্ঠ সদস্য জুলিয়ান বিশ্বাস।
অর্থ আত্মসাৎ ও নিয়োগ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ: মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাধারণ সদস্যরা অভিযোগ করেন, বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ও ক্রেডিট ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলে সাধারণ সদস্যদের জমানো তহবিলের টাকা নয়ছয় করছেন। তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনে বড় ধরণের অনিয়ম, তহবিলের প্রকাশ্য অপব্যবহার, অর্থ আত্মসাৎ, অফিস ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা এবং নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে জাল সনদে ম্যানেজার নিয়োগ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
বক্তারা আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পর্ষদের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা অডিট প্রতিবেদন টেম্পারিং (জালিয়াতি) করে বছরের পর বছর ধরে সাধারণ সদস্যদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। এমনকি অফিসের ভেতরেই নিয়মিত মাদকজাতীয় দ্রব্য সেবনের মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে সমবায় অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ জমা থাকার পরও রহস্যজনক কারণে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন—আন্দ্রিয়াস বিশ্বাস, মিলি ধনী, মমিন মারান্ডী, সুবাস রোজারিও এবং শিরিল মুর্মুসহ সমিতির সাধারণ সদস্যরা।
আরও পড়ুন
আগামীতে নিরাপদ রাজশাহী মহানগর গড়ে তোলা হবে
আন্দোলনকারীদের ৬ দফা দাবি: সমিতির ঐতিহ্য ও সদস্যদের আমানত রক্ষার্থে মানববন্ধন থেকে আন্দোলনকারীরা প্রশাসনের উদ্দেশ্যে জরুরি ভিত্তিতে ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো: ১. বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সকল সদস্য এবং অনিয়ম ও অভিযোগে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। ২. একটি নিরপেক্ষ অ্যাডহক কমিটি গঠন করে পরবর্তী নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে এবং নতুন পর্ষদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক ক্ষমতা ওই অ্যাডহক কমিটির হাতে ন্যস্ত করতে হবে। ৩. আত্মসাৎ ও তছরুপ করা সাধারণ সদস্যদের সমস্ত অর্থ অবিলম্বে সমিতির মূল তহবিলে ফেরত প্রদান করতে হবে। ৪. নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে অনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত বর্তমান ম্যানেজারকে দ্রুত চাকরি থেকে অপসারণ করতে হবে। ৫. অডিট প্রতিবেদন জালিয়াতি ও টেম্পারিংয়ের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দেশের প্রচলিত আইনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৬. বর্তমান দুর্নীতিবাজ পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক সম্প্রতি প্রকাশিত সকল নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করতে হবে।
মানববন্ধনের শেষ অংশে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাধারণ সদস্যদের আমানত নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে যদি এই ৬ দফা দাবির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন ও পর্ষদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে সমবায় কার্যালয় ঘেরাওসহ আরও কঠোর ও বাধ্যতামূলক কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।




.jpg)












আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।