বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী সঙ্গীত, কবিতা এবং তাঁর জার্মানি ভ্রমণের ঐতিহাসিক স্মৃতি স্মরণে বাংলাদেশে অবস্থিত জার্মান সাংস্কৃতিক সংস্থা ‘গ্যোটে-ইনস্টিটিউট’ (Goethe-Institut)-এর উদ্যোগে এক বিশেষ ও ব্যতিক্রমী সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার (২০ জুন) রাতে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ গ্যোটে-ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘স্মৃতির পথ ধরে’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দুই ঘণ্টাব্যাপী সুর ও বাণীর এই মোহময় আয়োজনে গানে, কবিতায় ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারা বর্ণনায় দর্শক-শ্রোতাদের সামনে মেলে ধরা হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে জার্মানির দীর্ঘস্থায়ী, নিবিড় ও গভীর আত্মিক সম্পর্ককে।
সঞ্চিতা পালের কণ্ঠে ১০ গান ও শতবর্ষের গুরুত্ব: রবীন্দ্রনাথের ঐতিহাসিক জার্মানি সফর এবং সেসব সফরকালে ও সফরে অনুপ্রাণিত হয়ে রচিত গানগুলো নিয়ে সাজানো হয়েছিল এই বিশেষ সংগীতায়োজন। অনুষ্ঠানে একক কণ্ঠে সুরের মূর্ছনা ছড়ান বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সঞ্চিতা পাল। রবীন্দ্রসংগীতের মূল বাংলা রূপের পাশাপাশি বিদেশি শ্রোতাদের জন্য ইংরেজি ভাষ্যেও এসব গানের ভেতরের দর্শন ও পটভূমি তুলে ধরা হয়। শিল্পীর পরিবেশনা শুরু হয় ‘আমারে তুমি অশেষ করেছ’ গানটি দিয়ে। এরপর তিনি একাদিক্রমে মোট ১০টি চমৎকার গান পরিবেশন করেন। প্রতিটি গানের ফাঁকে ফাঁকে এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও রচনার নেপথ্য গল্প শ্রোতাদের সামনে সবিস্তারে বর্ণনা করেন বিশিষ্ট স্থপতি ধ্রুব জ্যোতি।
অনুষ্ঠানে গ্যোটে-ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জার্মানিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রভাব ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও তাৎপর্যপূর্ণ। কয়েক দশক জুড়ে তিনি জার্মানির প্রখ্যাত চিন্তাবিদ, বিজ্ঞানী ও বিদ্বজ্জনের সঙ্গে গভীর বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে যুক্ত ছিলেন। এই আয়োজনে ১৯২৬ সালে রবীন্দ্রনাথের রচিত গানগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ, কবিগুরুর সেইসব কালজয়ী গান ও জার্মানি সফরের এ বছর (২০২৬ সাল) শতবর্ষ পূর্ণ হচ্ছে।
পরিচালকের মুখে জার্মান কবিতা ও পিনপতন নীরবতা: রবীন্দ্রসংগীতের পাশাপাশি এই সন্ধ্যার অন্যতম প্রধান ও বিশেষ আকর্ষণ ছিল গ্যোটে-ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের পরিচালক ফ্রঙ্ক ভারনারের (Frank Werner) নিজস্ব একটি পরিবেশনা। তিনি বিশ্বকবির নোবেলজয়ী কাব্যগ্রন্থ ‘গীতাঞ্জলি’ থেকে একটি নির্বাচিত কবিতার চমৎকার জার্মান অনুবৃত্তি বা অনুবাদ আবৃত্তি করে শোনান। আয়োজকরা জানান, বাংলা ও জার্মান সংস্কৃতির এই পারস্পরিক মেলবন্ধনকে উদ্যাপন করা এবং দুই দেশের সাহিত্য-দর্শনের এক অনন্য বঙ্গ-জার্মান সংলাপ তৈরি করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
আরও পড়ুন
সোনার দাম ভরিতে কমল ৩২৬৬ টাকা
সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় শুরু হওয়া হলভর্তি কয়েক শ’ দর্শক-শ্রোতার এই মেলবন্ধন চলে রাত পৌনে ৯টা পর্যন্ত। পুরো অনুষ্ঠানটি দর্শক-শ্রোতারা পিনপতন নীরবতায় মন্ত্রমুগ্ধের মতো উপভোগ করেন এবং সুরের ভেলায় চড়ে যেন ফিরে যান শতবর্ষ আগের রবীন্দ্রনাথের জার্মান দিনগুলিতে। অনুষ্ঠানে বাদ্যযন্ত্র পরিচালনায় সঞ্চিতা পালের সাথে একঝাঁক গুণী শিল্পী অংশ নেন, যার মধ্যে অক্টোপ্যাডে ছিলেন বিদ্যুৎ রায়, তবলায় গৌতম কুমার সরকার, এসরাজে মো. আশিকুল ইসলাম, গিটারে মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন এবং কিবোর্ডে রবিনস চৌধুরী।





.jpg)












আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।