সিনিয়র ফটো করেসপন্ডেন্ট: একসময় কর্ণফুলী নদীর বুকে ভেসে আসা নৌবহরের কলরবে মুখরিত থাকত চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ। নদী ও খালনির্ভর এই প্রাচীন বাণিজ্যকেন্দ্র থেকে প্রতিদিন শত শত টন পণ্য নৌপথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে যেত। তবে সময়ের আবর্তন, উন্নত সড়ক যোগাযোগ এবং নৌপথের নানাবিধ সংকটের কারণে সেই চেনা ব্যস্ততা এখন অনেকটাই ম্লান। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই নৌবাণিজ্য এখন জৌলুস হারিয়ে স্রেফ টিকে থাকার লড়াইয়ে অবতীর্ণ।
চট্টগ্রামের চাক্তাই, রাজাখালী ও বদরশাহ খালকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল দেশের অন্যতম বৃহৎ ভোগ্যপণ্যের এই পাইকারি বাজার। নদীপথের সহজলভ্যতাকে কাজে লাগিয়ে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এখান থেকে দেশের বিভিন্ন দ্বীপ ও উপকূলীয় এলাকায় চাল, ডাল, চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হতো।
বর্তমানেও কক্সবাজারের কুতুবদিয়া, মহেশখালী, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ এবং নোয়াখালীর হাতিয়াসহ কয়েকটি দুর্গম অঞ্চলে নৌপথে পণ্য পাঠানো হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, আগের তুলনায় এই বাণিজ্যের পরিধি এখন নামমাত্র।
নৌবাণিজ্য কমে যাওয়ার পেছনে চাক্তাই খালের মোহনায় নির্মিত স্লুইস গেটের সীমাবদ্ধতাকে প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। জোয়ারের সময়ও বড় আকারের ট্রলার ও নৌযান সরাসরি খালে প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে নদী থেকে পণ্য খালাস করে আবার ছোট নৌযানে বা ঘাটে তুলতে হচ্ছে। এই অতিরিক্ত ধাপের কারণে পরিবহন খরচ ও শ্রমিকের মজুরি দুটোই বেড়ে যাচ্ছে। এর ওপর খালের নাব্যতা সংকট তো রয়েছেই।
আরও পড়ুন
বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে জাইকা-মিডার যৌথ সেমিনার অনুষ্ঠিত
ঘাটের মাঝি ও শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, একসময় চাক্তাই খালের ঘাটগুলোতে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সাম্পান ও নৌকার দীর্ঘ সারি থাকত। জোয়ারের সময় পণ্যবোঝাই করে মাঝিরা গন্তব্যে ছুটে চলতেন। এখন খালের বিভিন্ন অংশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেই চিরচেনা রূপ আর চোখে পড়ে না। ফলে ঘাটের শত শত শ্রমিকের কাজের পরিধি এবং আয় দুটোই কমে গেছে। ব্যবসায়ীরাও এখন দ্রুত পণ্য পৌঁছাতে ট্রাক কিংবা কাভার্ডভ্যানের ওপর বেশি ভরসা করছেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, একসময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধান এসে চট্টগ্রামে রাইস মিলগুলোতে প্রক্রিয়াজাত হতো এবং তা আবার নৌপথে বিভিন্ন জেলায় যেত। কিন্তু এখন দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় আধুনিক অটো রাইস মিল গড়ে ওঠায় চট্টগ্রামকেন্দ্রিক চালের ব্যবসার পরিধি অনেকটাই সংকুচিত হয়ে এসেছে।
ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, উপকূলীয় ও দ্বীপাঞ্চলের মানুষের জন্য নৌপথ এখনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের এই ঐতিহ্যবাহী নৌবাণিজ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, স্লুইস গেটের প্রবেশপথের আধুনিকায়ন এবং নৌযান চলাচলের উপযোগী টেকসই অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারের পরিকল্পিত উদ্যোগই পারে শত বছরের এই বাণিজ্যিক ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে।





.jpg)












আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।