বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে নেওয়া ওভারড্রাফট বা অতিরিক্ত ঋণের চাপ কমাতে বিশেষ নিলামের (Special Auction) মাধ্যমে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংক তথা বাজার ব্যবস্থা থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিতে যাচ্ছে সরকার। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের 'ওয়েজ অ্যান্ড মিনস' (Ways and Means) থেকে গৃহীত সরকারের ধারের পরিমাণ নির্ধারিত আইনি সীমার নিচে নামিয়ে আনা হবে। সরকারের নগদ অর্থ ও ঋণ ব্যবস্থাপনার স্বার্থে নিয়মিত নিলামের পাশাপাশি এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সরকারি ঋণ ও আর্থিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ থেকে পাঠানো এই সংক্রান্ত একটি নীতিগত প্রস্তাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ইতোমধ্যে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন। এখন অর্থ বিভাগ এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পরবর্তী আইনি ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ট্রেজারি বিলের মেয়াদ ও অর্থমন্ত্রীর অনুমোদন: সূত্র জানায়, এই বিশেষ নিলামে ৩ মাস মেয়াদী একটি ট্রেজারি বিলের বিপরীতে ৫ হাজার কোটি টাকা এবং ১৪ দিন মেয়াদী অন্য একটি বিলের বিপরীতে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা বাজার থেকে ধারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম দফায় ২০২৬ সালের ১৮ জুন অথবা সুবিধাজনক কোনো তারিখে ৩ মাস মেয়াদী ৫ হাজার কোটি টাকার বিল এবং দ্বিতীয় দফায় ২৫ জুন বা সুবিধাজনক তারিখে ১৪ দিন মেয়াদী ৫ হাজার কোটি টাকার ট্রেজারি বিল বিশেষ নিলামের মাধ্যমে ইস্যু করার রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। এই উত্তোলিত অর্থ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বকেয়া ঋণ পরিশোধ করা হবে। প্রস্তাবটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হলে চলতি ২০ Spell-২৬ অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের নিট অর্থায়নের পরিমাণ দাঁড়িয়ে যাবে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকায়।
কেন এই বিশেষ নিলামের প্রয়োজনীয়তা? বাজেট নথি অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের নিট অর্থায়নের মূল লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু বাজেট বাস্তবায়নের গতি বাড়ায় ইতোমধ্যে ট্রেজারি বিল, বন্ড ও সুকুক ইস্যুর মাধ্যমে ১ লাখ ১২ piqued২৪ কোটি টাকার অর্থায়ন সম্পন্ন করা হয়েছে। এর বাইরে গত ৭ জুন পর্যন্ত বাজেট ঘাটতি মেটাতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরাসরি আরও ৩৬ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার।
আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকারের সর্বোচ্চ ওভারড্রাফটের নির্ধারিত আইনি সীমা হলো ২৪ হাজার কোটি টাকা। অথচ জুন মাসে অর্থবছর শেষের কারণে বাজেট বাস্তবায়নের ব্যয় অন্য যেকোনো মাসের চেয়ে অনেক বেশি থাকে। এই জটিল পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিক ব্যাংক বা মুক্ত বাজার থেকে নতুন করে ঋণ নেওয়া না হলে, অর্থবছর শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সরকারের দায়ের পরিমাণ ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল, যা অনুমোদিত সীমার দ্বিগুণেরও বেশি।
যদিও বর্তমান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী জুন মাসের অবশিষ্ট সময়ে ২ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকার নিয়মিত বিল-বন্ড ইস্যু এবং ১১ হাজার ১০০ কোটি টাকার সুকুক ইস্যুর প্রক্রিয়া সচল রয়েছে, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উৎস থেকে বাজেট সাপোর্ট হিসেবে ২১ হাজার কোটি টাকা ঋণ পাওয়া যাবে; তারপরেও ঘাটতি সামাল দেওয়া কঠিন হতো। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণকে আইনি কাঠামোর ভেতরে নামিয়ে আনতে এই বিশেষ নিলামের বিকল্প ছিল না বলে মনে করছে অর্থ বিভাগ।
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।