বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী নভেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করেছেন, এমন তথ্য জানা গেছে দলীয় ও কূটনৈতিক সূত্র থেকে। তারেক রহমানের একজন ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে দেশে ফিরতে চান তিনি।দলীয় সূত্র আরও জানায়, তারেক রহমান হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ঢাকা আসবেন , তবে যাত্রার আগে ওমরা পালনের জন্য তিনি সৌদি আরব যেতে পারেন এ বিষয়ে প্রস্তুতিও চলছে। গত কয়েক মাসে তারেক রহমান লন্ডনে কয়েক প্রভাবশালী কূটনীতিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন। এই বৈঠকে তারেক তার দেশে ফেরার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং রাজনৈতিক পরিকল্পনা বিষয়ে আলোচনা করেন। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, এই সাক্ষাৎগুলো তার প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একাধিকবার বলেছেন,“তারেক রহমান শিগগিরই দেশে ফিরে আসবেন”, তবে চূড়ান্ত তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি। দলীয় সহকর্মীরা বলছেন, চূড়ান্ত তারিখ এখনো ফাইনাল করা হয়নি, কারণ নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিবেশ বিবেচনায় এনে সময় নির্বাচন করা হবে। সূত্র অনুযায়ী, তারেক বর্তমানে যুক্তরাজ্যে ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন স্ট্যাটাসে অবস্থান করছেন। এই স্ট্যাটাস তাঁকে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বাস, কাজ ও পড়াশোনা করার সুযোগ দেয়, এবং ভবিষ্যতে ব্রিটিশ নাগরিকত্বের আবেদন করেও যেতে পারেন। প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও গুছিয়ে নেওয়া হচ্ছে। খালেদা জিয়ার জন্য একটি বুলেটপ্রুফ মিনিবাস ও তারেক রহমানের জন্য একটি বুলেটপ্রুফ এসইউভি কিনে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলেও দলীয় সূত্র জানাচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের নজরে রয়েছে তারেকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেয়া হবে “বিএনপির যেসব যৌক্তিক অনুরোধ আছে, সেগুলো বিবেচনায় আনা হবে।”
নিরাপত্তা বিষয়ক এ ব্যবস্থা প্রসঙ্গে বিএনপির নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর মন্তব্য করেছেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গণতন্ত্রের নতুন যাত্রায় নানা বাধা আসতে পারে। এই যাত্রায় তারেক রহমান সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন, তাই তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার।” তারেক রহমান দেশে ফেরার সম্ভাব্য তারিখ ও কার্যক্রমকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, তার প্রত্যাবর্তন বিএনপি-র জন্য এক নতুন সূচনা হতে পারে। তবে এটি সহজ হবে কি না, তা নির্ভর করবে আইনগত বাধা, প্রশাসনিক অনুমোদন ও রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর।
আরও পড়ুন
বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী নির্ধারণের জন্য চূড়ান্ত কৌশলগত রূপরেখা অনুসরণ করছে…
ইতিমধ্যে বিএনপির মধ্যে প্রস্তুতিমূলক কর্মসূচি দেখা যাচ্ছে। দলীয় কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা ঢাকা শহরকে ‘সমর্থকের সমুদ্র’ বানানোর পরিকল্পনায় মুখর। যদিও প্রত্যাবর্তন ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, তবুও এখন পর্যন্ত কোনো সরকারী ঘোষণা আসেনি। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজর রয়েছে কীভাবে রাজনৈতিক পরিবেশ এবং প্রশাসনের তা গ্রহণ করবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় দিকনির্দেশ।

















আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।