২০২৬ বিশ্বকাপের মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগের সপ্তাহে নেইমার জুনিয়রকে নিয়ে সেভাবে খুব একটা আলোচনা না হলেও, মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচের পরই পুরো দৃশ্যপট বদলে গেছে। উদ্বোধনী ম্যাচে সেলেসাওদের অত্যন্ত হতাশাজনক পারফরম্যান্স এবং পুরো ম্যাচজুড়ে ডাগআউটে বসে নেইমারের দেওয়া নানা প্রতিক্রিয়া আবারও এই পোস্টার বয়কে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। চোটের কারণে মাঠে নামতে না পারলেও দলের এমন কঠিন মুহূর্তে ড্রেসিংরুমে তার উপস্থিতি কতটা অপরিহার্য, তা আরও একবার হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ব্রাজিল দলের কোচিং স্টাফরা প্রবল আশা করছেন, আজ থেকেই নেইমার দলের সঙ্গে মাঠের মূল অনুশীলনে যোগ দেবেন। গতকাল অবশ্য তিনি দলের অন্য সাইডবেঞ্চারদের সঙ্গে জিম সেশনেই ব্যস্ত সময় পার করেছেন। অন্যদিকে, মরক্কো ম্যাচে মাঠে নামা মূল একাদশের ফুটবলারদের ক্লান্তি দূর করতে বিশেষ ছুটি দেওয়া হয়েছিল।
ব্রাজিল মেডিকেল টিম ইতিমধ্যেই নেইমারকে সবুজ সংকেত দিয়ে ফিটনেস দলের কাছে হস্তান্তর করেছে। সব ঠিক থাকলে আগামী শনিবার হাইতির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগেই তাকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে মাঠের স্কিল বা জাদুকরী ফুটবল দিয়ে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার চেয়েও, এই মুহূর্তে তরুণ স্কোয়াডে নেইমারের অভিজ্ঞতা ও সতীর্থদের ওপর তার মানসিক প্রভাব সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে আসা এই ‘নাম্বার ১০’ মরক্কো ম্যাচের সময় ডাগআউট থেকেই তরুণ ফুটবলারদের অনবরত দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এমনকি ম্যাচ চলাকালীন ওয়াটার ব্রেকের সময়েও তাকে জুনিয়রদের নানা পরামর্শ দিতে দেখা গেছে। পুরোটা সময় তিনি বেঞ্চে থাকা বিস্ময় বালক এনড্রিকের খুব কাছাকাছি ছিলেন এবং মাঝেমধ্যে কোচ কার্লো আনচেলত্তির পেছন থেকে মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে ইশারা-ইঙ্গিত করছিলেন।
আরও পড়ুন
ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায় নরওয়ে
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর বিপক্ষ দলের খেলোয়াড় ও স্টেডিয়ামে উপস্থিত অন্যান্য ক্রীড়াতরকারা নেইমারকে ঘিরে ধরেন। ম্যাচের স্কোয়াডে নাম না থাকায় ফিফার নিয়ম অনুযায়ী তিনি মিক্সড জোনে এসে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি, তবে ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের থমথমে ড্রেসিংরুমে তিনিই ছিলেন অন্যতম প্রধান ত্রাতা। দলের এই অস্বস্তিকর ও হতাশাজনক অভিষেকের পর তরুণদের মানসিকভাবে চাঙ্গা করতে এবং শান্ত রাখতে নেপথ্যে মূল ভূমিকা রাখছেন নেইমারই।
মেডিকেল টিমের প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী নেইমারের চোট পুরোপুরি সেরে উঠতে তিন সপ্তাহ সময় লাগার কথা ছিল, যার চূড়ান্ত আপডেট জানা যাবে আগামী বুধবার। সেই হিসেবে হাইতি ম্যাচের আগে তার মাঠে ফেরার সময়টা বড্ড কম। তবে বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্টে স্নায়ুচাপ সামলাতে পারেন এবং মাঠে বলের দখল (পজিশন) ধরে রাখতে পারেন, এমন অভিজ্ঞ লিডারের বড্ড অভাব বর্তমান ব্রাজিলে। আর তাই বড্ড দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই নেইমারের মাঠে ফেরা এখন সেলেসাওদের জন্য সময়ের দাবি।




.jpg)











আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।