পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আবারও লিখে ফেললেন ইতিহাসের নতুন অধ্যায়। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এককভাবে শীর্ষে উঠে গেছেন সিআর সেভেন। মঙ্গলবার রাতে লিসবনে হাঙ্গেরির বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে রোনালদো দুই গোল করে ছুঁয়েছেন এক অনন্য মাইলফলক।
এই দুই গোলের মাধ্যমে তার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১-এ। এতদিন পর্যন্ত তিনি ৪০ গোল নিয়ে গুয়াতেমালার সাবেক তারকা কার্লোস রুইজের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন। প্রথম গোল করে রুইজকে ছুঁয়ে ফেলেন, আর দ্বিতীয় গোল করে গড়েন একক ইতিহাস। পর্তুগালের জার্সিতে ৫০ ম্যাচ খেলে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন রোনালদো।
রোনালদোর গোলের পরিসংখ্যান সত্যিই অবিশ্বাস্য। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত তার মোট গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৪৮। ছয়টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের মধ্যে পাঁচটিতেই অন্তত পাঁচ বা তার বেশি গোল করেছেন এই মহাতারকা। এমন ধারাবাহিকতা ফুটবল ইতিহাসে বিরল।
লিসবনের ম্যাচে শুরুটা দারুণ করেছিল হাঙ্গেরি। ম্যাচের মাত্র অষ্টম মিনিটে আতিলা সালাই গোল করে অতিথিদের এগিয়ে দেন ১-০ ব্যবধানে। কিন্তু পর্তুগাল দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ায়। রোনালদোর পা থেকেই আসে সমতাসূচক গোল, যা মুহূর্তেই স্টেডিয়াম ভরিয়ে দেয় উচ্ছ্বাসে। এরপর আরও একবার জালে বল পাঠিয়ে পর্তুগালকে এগিয়ে দেন ২-১ ব্যবধানে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে লিভারপুলের মিডফিল্ডার ডমিনিক সোবোস্লাই গোল করে হাঙ্গেরিকে এনে দেন মূল্যবান এক পয়েন্ট, ম্যাচ শেষ হয় ২-২ ড্রয়ে।
আরও পড়ুন
এমবাপ্পের একমাত্র গোলে গেতাফেকে হারিয়ে শীর্ষে রিয়াল মাদ্রিদ
রবার্তো মার্টিনেসের কোচিংয়ে এই ম্যাচেও পর্তুগাল দেখিয়েছে আক্রমণাত্মক ফুটবলের নিদর্শন। বল দখলে ও আক্রমণে তারা এগিয়ে থাকলেও শেষ মুহূর্তের সেই গোলই তাদের জয় থেকে বঞ্চিত করে। তবুও পয়েন্ট তালিকায় পর্তুগাল এখন পর্যন্ত চার ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে, আর হাঙ্গেরি পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে।
আগামী নভেম্বরের আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে আয়ারল্যান্ড ও আর্মেনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ জিতলেই ২০২৬ বিশ্বকাপে আনুষ্ঠানিকভাবে জায়গা নিশ্চিত করবে পর্তুগাল। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য সেই ৪৮-দলের বিশ্বকাপে রোনালদোর বয়স হবে ৪১ বছর। তবুও বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তরা বিশ্বাস করেন—এই কিংবদন্তিকে আবারও দেখা যাবে বিশ্বকাপের সবুজ মঞ্চে।
রোনালদোর ব্যক্তিগত প্রেরণা এবং ফিটনেস এখনো অনেক তরুণ খেলোয়াড়ের জন্য অনুপ্রেরণা। বয়স যেন তার কাছে কেবলই একটি সংখ্যা। রোনালদো নিজেও বলেছেন, “আমি যতদিন শরীর ও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকব, ততদিন মাঠে থাকতে চাই।” তার এই মনোভাবই প্রমাণ করে, কেন তিনি আজও বিশ্ব ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তি।

















আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।