দেশের বেকার যুবসমাজের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি সম্পূর্ণ বৈষম্যহীন কর্মসংস্থান ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ ব্যবস্থা চালুর বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ঘোষিত নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে দেশের ৫৫তম বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই পরিকল্পনার কথা জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন। বর্তমান নতুন সরকারের মেয়াদে এটি অর্থমন্ত্রীর প্রথম বাজেট।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, "‘করবো কাজ, গড়বো দেশ’—এই মূল নীতির ভিত্তিতে বিভিন্ন খাতভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির ব্যাপক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি বৈষম্যহীন কর্মসংস্থান ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আমরা প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছি, যা চাকরিপ্রার্থীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ঠিকানা হবে।"
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা জোরদার করতেও সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। এই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশে পুরোপুরি শিশু শ্রম বন্ধে ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০২৬-২০৩০’-এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
জানুন বিশ্বজুড়ে নারীর আত্মবিশ্বাসের অনন্য প্রতীক কি
অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক শ্রমবাজারের চাহিদার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বাজারের চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে বাজার-চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম উন্নয়ন, সার্টিফিকেশন, অ্যাক্রেডিটেশন এবং মান নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, অর্থ বিভাগের অধীনে পরিচালিত ‘স্কিলস ফর...ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রাম’ (SICIP)-এর আওতায় প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষকে মাঝারি থেকে উচ্চতর দক্ষতার বিশেষ কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অত্যন্ত আশাবাজির কথা হলো, এই প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মাঝে অন্তত ৬৫ শতাংশ মানুষের তাৎক্ষণিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।





.jpg)












আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।