রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির মধ্যেই এবার অন্যতম প্রধান পরাশক্তি চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার শীর্ষনেতা কিম জং উন। একই সঙ্গে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক শীর্ষ বৈঠকটিকে প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি 'ঐতিহাসিক মুহূর্ত' হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।
আজ বুধবার (১ জুলাই) চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি) প্রতিষ্ঠার ১০৫তম ঐতিহাসিক বার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে পাঠানো এক বিশেষ অভিনন্দন বার্তায় কিম জং উন এই প্রতিশ্রুতি দেন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ (KCNA) আজ সকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সমাজতান্ত্রিক আদর্শ ও দীর্ঘ ঐতিহাসিক শিকড়ের বন্ধন
শি জিনপিংকে পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় কিম জং উন উল্লেখ করেন, বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ককে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই পিয়ংইয়ংয়ের প্রধান রাজনৈতিক অবস্থান। তিনি বলেন:
আরও পড়ুন
ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছে চীনা সেনাবাহিনী
"দীর্ঘ ঐতিহাসিক শিকড় ও সমাজতন্ত্রের অভিন্ন আদর্শকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা উত্তর কোরিয়া ও চীনের মধ্যকার এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে অবিচলিতভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া আমাদের দল ও সরকারের একটি দৃঢ় ও অপরিবর্তনীয় অবস্থান।"
উত্তর কোরিয়ার নেতা আরও বলেন, গত ৮ ও ৯ জুন শি জিনপিংয়ের পিয়ংইয়ং সফরটি ছিল গত প্রায় সাত বছরের মধ্যে উত্তর কোরিয়ায় কোনো চীনা প্রেসিডেন্টের প্রথম ঐতিহাসিক সফর। এই শীর্ষ বৈঠকটি দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যকার কমরেডসুলভ বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বিশ্বাসকে আরও গভীর করার একটি অনন্য মাইলফলক ছিল। বৈঠকে দুই নেতাই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও বহুমুখী করার ক্ষেত্রে তাদের অটল ইচ্ছা আবারও ব্যক্ত করেছেন।
রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতার মাঝেও অর্থনৈতিক ভরসা চীন
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কিম ও শি-র এই রূপরেখাকে দুই দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করার একটি দূরদর্শী পরিকল্পনা হিসেবে বর্ণনা করেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, সফরের সময় শি জিনপিং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর বিশেষ তাগিদ দেন।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার খুব ঘনিষ্ঠ হয়েছে উত্তর কোরিয়া এবং দুই দেশ একটি কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে। ওই চুক্তির অধীনে ইউক্রেন সংঘাতে রাশিয়ার পক্ষে লড়তে হাজার হাজার উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তবে সামরিক ক্ষেত্রে মস্কোর দিকে ঝুঁকলেও চীন এখনো উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি ও অর্থনৈতিক অংশীদার। উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে তাদের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯৮ শতাংশই সম্পন্ন হয়েছে একমাত্র চীনের সঙ্গে।





.jpg)












আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।