স্টাফ রিপোর্টার,ঢাবি
ঢাকা, ১৩ অক্টোবর রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র নীলক্ষেত ও নিউমার্কেট এলাকায় মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও , শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাংবাদিকসহ উভয় পক্ষের একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের ফলে ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং সাধারণ জনজীবন চরমভাবে বিঘ্নিত হয়।
রোববার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ঢাবির শাহনেওয়াজ হলের সামনের ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে উভয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়, যা দ্রুতই সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েমসহ বিভিন্ন ছাত্রনেতা। তারা উভয়পক্ষকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিপুল সংখ্যক সদস্য নিউমার্কেট ও নীলক্ষেত এলাকায় মোতায়েন করা হয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উভয়পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
ডিএমপি’র নিউমার্কেট জোনের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর সাংবাদিকদের জানান, "শাহনেওয়াজ হলের সামনের ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।"
আরও পড়ুন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ৬ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি
তিনি আরও বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। যদি কেউ দোষী সাব্যস্ত হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এখনো পর্যন্ত হতাহতের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।”
এদিকে সংঘর্ষের সময় সংবাদ সংগ্রহে আসা কয়েকজন সাংবাদিকও হামলার শিকার হন বলে জানা গেছে। সাংবাদিক নেতারা এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার পর থেকে নীলক্ষেত ও নিউমার্কেট এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। বন্ধ হয়ে গেছে আশপাশের দোকানপাট। সাধারণ মানুষ এসব এলাকায় চলাচল এড়িয়ে চলছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় টহল জোরদার রেখেছে পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের প্রতি শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও সুষ্ঠু সমাধানের দাবিতে উভয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিস্তারিত আসছে...

















আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।