আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করতে দেশজুড়ে প্রায় ৬ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্যে সেনাবাহিনী ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ সদস্য নিয়ে মাঠে থাকবে, দেড় লাখ সদস্য নিয়ে কাজ করবে পুলিশ, আর আনসার থেকে আসবে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ সদস্য।
সোমবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এই তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন চার নির্বাচন কমিশনার, ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা।
সচিব জানান, "নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাই একমত। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কমিশনের মধ্যে কোনো উদ্বেগ নেই। সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে 'In Aid to the Civil Power' নীতিতে।"
তিন ধাপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ইসি জানায়, নির্বাচন উপলক্ষে তিন ধাপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে:
আরও পড়ুন
এবার আগুন নাশকতার তীর কি গার্মেন্টস শিল্পের দিকে ? দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমি কতটুকু সচেতন ?
-
তফসিল ঘোষণার আগে: চিহ্নিত অপরাধী, সন্ত্রাসী ও নির্বাচনবিরোধী কার্যকলাপকারীদের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে অভিযান চালানো হবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
-
তফসিল থেকে ভোটগ্রহণ পর্যন্ত: এই সময়ে সব প্রার্থীকে নির্বিঘ্নে প্রচার চালানোর সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে মোতায়েন থাকবে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসারসহ অন্যান্য বাহিনী। থাকবে মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্সও।
-
ভোটের পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা: সম্ভাব্য সহিংসতা রোধে মাঠে থাকবে মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। প্রয়োজনে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটিও সক্রিয় থাকবে।
আগের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পাঁচ দিনের জন্য মোতায়েন থাকলেও এবার এই সময় বাড়িয়ে আট দিনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে থাকবে ভোটের আগের তিন দিন, ভোটের দিন ও পরবর্তী চার দিন। ইসি সচিব বলেন, "এই প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।"
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিচের বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানায় কমিশন:
-
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তা: সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
-
অবৈধ অস্ত্র দমন: তফসিল ঘোষণার পর বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন নিষিদ্ধের জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশনা দেওয়া হবে।
-
ভুয়া তথ্য রোধে এআই প্রযুক্তি: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ঠেকাতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
-
বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা: তাদের দায়িত্ব পালনে আইনগত সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
-
পোস্টাল ব্যালট: প্রবাসী ভোটার ও ডাকযোগে ভোটগ্রহণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
-
ড্রোন ব্যবহার নিষিদ্ধ: নির্বাচনি এলাকায় প্রচারণায় ড্রোন ব্যবহার নিষিদ্ধ। তবে প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবহার করতে পারবে।
-
সমন্বিত উদ্যোগ: সব বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় এবং স্থানীয় প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ সচিব ও গ্রাম পুলিশের সম্পৃক্ততা বাড়ানো হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, “ভোটের উপযোগী পরিবেশ রয়েছে। সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড বা সহিংসতার ঘটনা নিয়ে সভায় আলাদাভাবে আলোচনা হয়নি।”
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি লুট হওয়া অস্ত্রের ৮৫ শতাংশ ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। অবশিষ্ট অংশ উদ্ধারে কাজ চলছে।
ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, সীমানা পুনর্নির্ধারণ, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন এবং ভোটকেন্দ্র চূড়ান্তকরণের কাজ অনেকদূর এগিয়ে গেছে। ভোটার তালিকার সিডি প্রস্তুতির কাজও প্রায় শেষ।
নির্বাচন কমিশনের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক প্রস্তুতি, সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হবে বলে আশাবাদী ইসি।
ছবি:সংগৃহীত
















আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।