নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতিসংঘের চলমান অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটির সদর দপ্তর। আগামী নয় মাসের মধ্যে বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশন থেকে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর মোট ১,৩১৩ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হবে।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের মিলিটারি অ্যাফেয়ার্স কার্যালয়ের (ওএমএ) পাঠানো এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে ১৫ শতাংশ বাজেট হ্রাসের নির্দেশনা দিয়েছেন। তারই অংশ হিসেবে ইউনিফর্মধারী শান্তিরক্ষীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হচ্ছে।
চিঠি অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি সদস্য প্রত্যাহার করা হবে দক্ষিণ সুদানের মিশন ‘ইউএনমিস’ থেকে মোট ৬১৭ জন। এছাড়া মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের ‘মিনুসকা’ মিশন থেকে ৩৪১ জন, সুদানের আবেই অঞ্চলের ‘ইউনিসফা’ থেকে ২৬৮ জন, কঙ্গোর ‘মনুসকো’ থেকে ৭৯ জন এবং পশ্চিম সাহারার ‘মিনুরসো’ থেকে ৮ জন সদস্য দেশে ফিরবেন।
এর আগে, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র থেকে বাংলাদেশ পুলিশের একমাত্র অবশিষ্ট কন্টিনজেন্ট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৮০ সদস্যের এ কন্টিনজেন্টে ৭০ জন নারী কর্মকর্তা রয়েছেন, যারা চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরে আসবেন। উল্লেখ্য, মাত্র দুই মাস আগে এই কন্টিনজেন্টের অংশ হিসেবে জাতিসংঘের একমাত্র সর্ব-নারী পুলিশ ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ৬ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনকে দেওয়া চিঠিতে জানানো হয়, সিদ্ধান্তটি সাময়িক এবং এটি কেবল বাজেট সংকটের কারণে নেওয়া হয়েছে। যদি ভবিষ্যতে এ পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আসে, তবে বাংলাদেশকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করা হবে। মিশন প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের লজিস্টিক ও মিশন সাপোর্ট বিভাগ সমন্বয় করে কাজ করবে।
তিনি আরও বলেন, “জাতিসংঘের অন্যান্য মিশনে কৌশলগতভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ খুঁজে বের করতে হবে। এছাড়া সিনিয়র পদে নিয়োগ পাওয়া, প্রশিক্ষণ ও লজিস্টিক সরবরাহে সক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।”
বর্তমানে বিশ্বের ১০টি দেশ ও অঞ্চলে পাঁচ হাজার ৬১৯ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ সুদান, কঙ্গো, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, সুদানের আবেই অঞ্চল, পশ্চিম সাহারা, লেবানন, সাইপ্রাস, ইয়েমেন ও লিবিয়া। এসব মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা তাদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছেন।
বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত পুলিশের প্রায় ২১ হাজার কর্মকর্তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ২৬টি শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন।

















আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।