ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর ২টা ৩৪ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ডিউটি অফিসার লিমা খানম জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পর প্রথমে চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আরও ২৪টি ইউনিট যোগ হয়। বর্তমানে মোট ২৮টি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে। আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। লিমা খানম জানান, “আগুনের উৎস ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা সম্ভব নয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”
অন্যদিকে, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফ্লাইট ওঠানামা স্বাভাবিক রয়েছে। কার্গো ভিলেজের মূল ভবনে আগুন লাগলেও রানওয়ে ও যাত্রী টার্মিনালে এর প্রভাব পড়েনি। এ কারণে কোনো ফ্লাইট বিলম্ব বা বাতিলের ঘটনা ঘটেনি।
আরও পড়ুন
ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে ঢাকার ৬০ শতাংশ এলাকা
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলের দিকে কার্গো ভিলেজের গুদামঘর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বিমানবন্দর পুলিশ, এভিয়েশন সিকিউরিটি ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
এদিকে, বিমানবন্দরের আশপাশের এলাকায় যান চলাচল আংশিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সাধারণ মানুষকে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি যেতে নিষেধ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, কার্গো ভিলেজে বিপুল পরিমাণ দাহ্য পদার্থ ও প্যাকেজিং সামগ্রী সংরক্ষিত থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, দূর থেকে কালো ধোঁয়া আকাশে দেখা যাচ্ছিল।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকটি গুদাম এলাকা খালি করা হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা জানান, “আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি এটি বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে ঘটতে পারে, তবে নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে।”
প্রসঙ্গত, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার। এখানে কার্গো ভিলেজে প্রতিদিন শতাধিক ফ্লাইটের মালামাল লোড-আনলোড করা হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আগুন লাগায় তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
















আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।