কক্সবাজার প্রতিনিধি | কালবিন্দু
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভয়াবহভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ক্যাম্পে স্থাপিত ৭০০ সিসি ক্যামেরার একটিও এখন সচল নেই। ফলে অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
এরই মধ্যে প্রতিদিনই ক্যাম্পগুলোতে সন্ত্রাস, হত্যা, মাদক ও অস্ত্র কারবারের মতো নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটছে। স্থানীয় প্রশাসন ও রোহিঙ্গা নেতারাও স্বীকার করছেন—এই পরিস্থিতি এখন “নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি”।
২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে নির্যাতিত হয়ে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় আশ্রয় নেয়। সময়ের ব্যবধানে সেই সংখ্যা বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে ১১ লাখে।
উখিয়ার পাহাড়ি অঞ্চলের ৮ হাজার একরজুড়ে গড়ে ওঠা ৩৩টি ক্যাম্প নিয়ন্ত্রণে রাখতে সে সময় সরকার কাঁটাতারের বেড়া ও নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করে।
আরও পড়ুন
পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি ডিসেম্বরে, বোর্ডের প্রথম সভা শেষে জানালেন মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ক্যাম্পের বিভিন্ন অংশে কাঁটাতার কেটে তৈরি করা হয়েছে গোপন পথ, যার মাধ্যমে রোহিঙ্গারা অবাধে বাইরে যাতায়াত করছে।
বালুখালী পানবাজার ক্যাম্পে অন্তত ছয়টি পয়েন্টে কাঁটাতার কেটে তৈরি করা হয়েছে গোপন রাস্তা। স্থানীয়দের অভিযোগ—রোহিঙ্গারাই এসব পথ তৈরি করেছে এবং এগুলো দিয়ে ক্যাম্পের বাইরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে তারা।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, কাঁটাতার কেটে ফেলার পর তা আর মেরামত করা হয়নি। ফলে দুষ্কৃতকারীরা এই পথগুলো ব্যবহার করে ক্যাম্পের বাইরে যাচ্ছে এবং স্থানীয় অপরাধীদের সঙ্গে মিশে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
এপিবিএন (Armed Police Battalion) জানিয়েছে, ক্যাম্পে স্থাপিত ৭০০ সিসি ক্যামেরার একটিও এখন সচল নেই। এতে নজরদারি ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে অপরাধ শনাক্ত বা দমন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
রোহিঙ্গা নেতারাও স্বীকার করেছেন যে, মাদক ও অস্ত্রের ব্যবসা এই ধ্বংসাত্মক তৎপরতার মূল কারণ। ক্যাম্পে প্রভাবশালী চক্রগুলো এই কারবারের নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে দলীয় সংঘাত ও সহিংসতা বাড়িয়ে তুলছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন,
“রোহিঙ্গারা চুরি করে ক্যাম্প থেকে বের হয়। আমরা তাদের গ্রেপ্তার করে ফেরত পাঠাই, কিন্তু তারা আবার বের হয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।”
তিনি আরও জানান, স্থানীয়দের সহযোগিতায় অনেক রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরে অবস্থান নিচ্ছে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে দিন দিন অরাজকতা ও অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে—এখন জরুরি হয়ে পড়েছে একটি নতুন ও শক্তিশালী নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা।
অন্যথায়, ক্যাম্পের ভেতরে সন্ত্রাস, অস্ত্র ও মাদক কারবার আরও ছড়িয়ে পড়বে, যা শুধু কক্সবাজার নয়—সমগ্র দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এই অরাজক অবস্থা শুধু স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা নয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তাদের পরামর্শ, দ্রুত নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্গঠন, ক্যামেরা পুনঃস্থাপন, এবং স্থানীয় অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
















আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।