লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি (জাপা) সমর্থিত মোট ৫৬ জন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য সোমবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় একযোগে নিজ নিজ দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
পদত্যাগকারীদের মধ্যে ৪৪ জন আওয়ামী লীগ সমর্থিত এবং ১২ জন জাতীয় পার্টি (জাপা) সমর্থিত সদস্য রয়েছেন। তাদের মধ্যে একাধিকজন জানিয়েছেন, কেউ কেউ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–বিএনপিতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আবার অনেকে এখনো কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ না দিয়ে ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার সন্ধ্যায় মহেন্দ্রনগর ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে এক জরুরি সভায়। সেখানে একত্রিত হয়ে দলত্যাগের ঘোষণা দেন এসব জনপ্রতিনিধি।
“আজ থেকে আমরা আর কোনোদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করব না। তবে ভবিষ্যতে ভালো কোনো রাজনৈতিক দল পেলে, সেই দলে যোগ দেব।”
আরও পড়ুন
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ঢুকে ছবি-ভিডিও ধারণের সময় যুবক আটক
এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত অন্যান্য সদস্যরাও একই সিদ্ধান্তে কণ্ঠ মিলিয়ে নিজেদের দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা লালমিয়া বলেন,
“আমরা বহু বছর ধরে আওয়ামী লীগের জন্য কাজ করেছি, ত্যাগ স্বীকার করেছি। কিন্তু আজ তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা অবহেলিত, আর সুবিধা পাচ্ছেন সুযোগসন্ধানীরা। এমন দলে থাকা আমাদের জন্য অপমানজনক।”
অন্যদিকে, জাপা সমর্থিত সদস্য সাহাবুল হক বলেন,
“আমরা জাতীয় পার্টিতে থেকেও কোনো মূল্যায়ন পাইনি। উপজেলা পর্যায়ে দলীয় সিদ্ধান্তে বারবার অবিচার হয়েছে। তাই সম্মিলিতভাবে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবদুল কাদের বলেন,
“এই ঘটনাটি শুধু একটি ইউনিয়নের নয়; এটি তৃণমূল পর্যায়ে দলে দলে ক্ষোভ ও হতাশার প্রতিফলন। যদি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দ্রুত সমাধান না হয়, তাহলে এর ঢেউ আশেপাশের উপজেলাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।”
-
লালমিয়া (খুনিয়াগাছ ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক)
-
মমতাজ আলী (মহেন্দ্রনগর ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি)
-
সাহাবুল হক (মহেন্দ্রনগর ইউপি সদস্য ও জেলা জাপার সদস্য)
-
আজিজুল ইসলাম (হারাটি ইউপি সদস্য ও হারাটি ইউনিয়ন ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক)
-
ইব্রাহীম মিয়া (খুনিয়াগাছ ইউপি সদস্য ও খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি)সহ মোট ৫৬ জন জনপ্রতিনিধি।
তবে জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনো তারা পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে পাননি। লিখিত পদত্যাগপত্র জমা পড়লেই তা আইনি প্রক্রিয়ায় যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

















আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।