ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাঙ্গা সরকারি কে.এম. কলেজের ফলাফল ও শিক্ষার মান নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। সরকারি হওয়া, বিশাল ক্যাম্পাস এবং নতুন ভবন নির্মাণ সত্ত্বেও এই কলেজের শিক্ষার মান দিন দিন নিম্নগামী হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কলেজটি ২০১১ সালে সরকারিকরণ হয়। এরপর থেকে অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিপুল পরিবর্তন এসেছে। সুউচ্চ ভবন, আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, সাজানো-গোছানো ক্যাম্পাস—সবকিছুতেই পরিবর্তন এসেছে দৃশ্যমানভাবে। কিন্তু শিক্ষার গুণগত মানে সেই উন্নতি পরিলক্ষিত হয়নি।
সাম্প্রতিক পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, ভাঙ্গা সরকারি কে.এম. কলেজের পাসের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে।
-
ব্যবসা শিক্ষা বিভাগে: পাস করেছে মাত্র ২২ জন, ফেল করেছে ৫১ জন।
-
মানবিক বিভাগে: পাস করেছে ২৭৮ জন, ফেল করেছে ৫৯৫ জন।
-
বিজ্ঞান বিভাগে: পাস করেছে ৫২ জন, ফেল করেছে ৩৪ জন।
মোট পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৪.৭৮%। যদিও কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৫ জন শিক্ষার্থী, যা প্রতিষ্ঠানটির মান নিয়ে আরও প্রশ্ন তুলেছে।
একই উপজেলার ভাঙ্গা মহিলা ডিগ্রি কলেজের ফলাফল তুলনামূলকভাবে অনেক ভালো।
-
ব্যবসা শিক্ষা বিভাগে: পাস করেছে ৩ জন, ফেল করেছে ১ জন।
-
মানবিক বিভাগে: পাস করেছে ৫৫ জন, ফেল করেছে ১৪ জন।
-
বিজ্ঞান বিভাগে: পাস করেছে ৫ জন, ফেল করেছে ২ জন।
এ কলেজের মোট পাসের হার ৮১.৮২%, যা জাতীয় গড় (ঢাকা বিভাগে ৬৮%) এর চেয়েও বেশি।
অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি, কে.এম. কলেজের মানহ্রাসের মূল কারণ হলো শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা ও প্রশাসনিক দুর্বলতা।
অনেক শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস নেন না—এমন অভিযোগও উঠেছে বারবার। কয়েকজন অভিভাবক বলেন,
“কিছু শিক্ষক মাসে সাত দিনও ক্লাসে আসেন না। সরকার বেতন দেয়, কিন্তু শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে না নিয়মিত শিক্ষা।”
অন্যদিকে, কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, অনেক সময় নির্ধারিত ক্লাস স্থগিত থাকে এবং একাডেমিক মনিটরিং নেই বললেই চলে।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, অবকাঠামোগত উন্নয়ন একমাত্র শিক্ষার মান বাড়াতে পারে না। শিক্ষক উপস্থিতি, পাঠদান পদ্ধতি এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত মূল্যায়ন—এই তিনটি দিকের উন্নয়ন ছাড়া ফলাফল পরিবর্তন সম্ভব নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ও শিক্ষাবিদ ড. কামাল উদ্দিন বলেন,
“সরকারিকরণের পর যেসব কলেজে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় থাকে না, সেসব প্রতিষ্ঠানে মানহ্রাস ঘটে। কে.এম. কলেজে অবকাঠামো আছে, কিন্তু একাডেমিক দায়বদ্ধতা নেই।”















আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।