মিঃ স্বপন বৈরাগী
দুরন্ত নদীর তীরে অবস্থিত "আলোরছায়া" নামক একটি গ্রাম। এই গ্রামের মানুষগুলো সহজ-সরল, কিন্তু যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে চলতে তারা এখন কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। এখানকার একমাত্র উচ্চশিক্ষিত যুবক রাশেদ। শহরের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে এসেছে, চাকরি করেছে, কিন্তু কিছুতেই তৃপ্ত হতে পারেনি। তার বিশ্বাস, "মানুষের জন্য কিছু না করতে পারলে বাঁচার কোনো মানে হয় না।"
রাশেদ রাজনীতি করতে চায় সৎভাবে। সে চায় না পোস্টারে তার ছবি থাকুক, চায় না মাইক ফাটিয়ে স্লোগান উঠুক। চায় না লোকজন তার পেছনে দৌড়াক শুধু একটা খাওয়ার প্যাকেটের জন্য। সে চায়, গ্রামের মানুষ যেন তার অধিকার বুঝে, যেন রাষ্ট্রের সম্পদ কেবল কিছু গোষ্ঠীর হাতে না গিয়ে, প্রকৃত উপকারভোগীর হাতে পৌঁছে। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় সেখানেই। যখন রাশেদ নির্বাচনের কথা চিন্তা করে, তখন তার আপন লোকেরাই বলে "ভাই, তুই যদি উঠতে চাস, পকেটে কিছু টাকা থাকতেই হবে। এলাকার বাচ্চাগুলার খাওয়া, যাতায়াত, পেছনে যারা ঘুরবে, সবার খরচ তোরই লাগবে।" কেউ বলে, "একবার জিত, পরে যা করিস করিস। আগে টিকিট পাই, পরে দেখা যাবে।" রাশেদ অবাক হয় সৎভাবে রাজনীতি করতে হলে নাকি আগে অসৎভাবে শুরু করতে হবে! এই ভাবনায় তার মন বিদ্রোহ করে। রাশেদ একদিন ঘোষণা দেয়
"আমি নির্বাচন করবো, কিন্তু কারো কাছে এক টাকাও চাইবো না, কাউকে এক টাকাও দেবো না। যদি মানুষ আমার কথা বুঝে, তারা নিজে থেকেই সমর্থন করবে। আর যদি না করে, তাহলে আমি সংসদে না গেলেও, মানুষের সেবা করে যাবো অন্যভাবে।" মানুষ হাসে। কেউ পেছনে বলে, "বোকা!" কেউ বলে, "সাদামাটা কথা বলে কেউ সংসদে যায় না ভাই।" কিন্তু ধীরে ধীরে কিছু মানুষ রাশেদের পাশে দাঁড়াতে শুরু করে। কেউ তার পোস্টার নিজে প্রিন্ট করে, কেউ তার কথা শোনার জন্য
















আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।