ভুয়া জন্মসনদ জটিলতায় ভোগান্তি: ডিএসসিসির বিতর্কিত উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো নাগরিক
রাজধানীর ধানমন্ডির বাসিন্দা ইমরান কবির সম্প্রতি পাসপোর্ট করতে গিয়ে জানতে পারেন, তার চার বছরের ছেলে মাসুদ কবিরের জন্মসনদটি ভুয়া। জাতীয় সার্ভারে এর কোনো সংযোগ নেই। এ নিয়ে তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয়ে অভিযোগ জানাতে গেলে সন্তোষজনক উত্তর পাননি।
একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন খিলগাঁওয়ের নাহিদুল ইসলামও। তিনি জানান, সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের আমলে যে জন্মসনদ বিতরণ হয়েছিল তা অবৈধ হওয়ায় তাকে ফের নতুন করে আবেদন করতে হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আগের ফি ফেরত দেওয়া হয়নি, আবার নতুন ফি দিতে হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ভোগান্তি কমানোর নামে ডিএসসিসি নিজস্ব সার্ভার থেকে প্রায় ৭৯ হাজার জন্মনিবন্ধন ও মৃত্যুসনদ বিতরণ করেছিল। কিন্তু এসব সনদ জাতীয় সার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত না থাকায় নাগরিকরা স্কুলে ভর্তি, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে আবার জাতীয় সার্ভারে আবেদন করছেন তারা।
আরও পড়ুন
বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে জাইকা-মিডার যৌথ সেমিনার অনুষ্ঠিত
আইন অনুযায়ী, জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের তথ্য সংরক্ষণ ও বিতরণের ক্ষমতা কেবল রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের। ডিএসসিসির নিজস্ব সার্ভার ব্যবহারের কোনো আইনগত ভিত্তি ছিল না। ফলে বিতর্কিত এই উদ্যোগ নাগরিকদের বিপাকে ফেলেছে।
ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল ইসলামও স্বীকার করেছেন, জাতীয় সার্ভার থাকা অবস্থায় নিজস্ব সার্ভারে জন্মসনদ বিতরণ ঠিক হয়নি। তিনি বলেন, “যারা ভুক্তভোগী হয়েছেন এবং ফের আবেদন করছেন, তাদের সেবা আন্তরিকতার সঙ্গে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।”
এদিকে, আগামী ৬ অক্টোবর জাতীয় জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন দিবস পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। কিন্তু এর আগেই হাজারো নাগরিকের ভোগান্তির ঘটনা জন্মনিবন্ধন ব্যবস্থার দুর্বল দিকগুলো সামনে নিয়ে এসেছে।
















আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।