বাংলা সাহিত্যের অবিসংবাদিত রূপকার, পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুরে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি গভীর শ্রদ্ধা ও সুগভীর সম্মানের সঙ্গে পালন করা হয়েছে। কবির স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, দোয়া ও মোনাজাতসহ নানা বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
গত শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে ফরিদপুর শহরের অম্বিকাপুরে অবস্থিত কবির নিজ সমাধিস্থলে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই প্রধান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্যা।
এ দিন সকালে কবির সমাধিতে একে একে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, ফরিদপুর ফাউন্ডেশন, জসীম ফাউন্ডেশন, ফরিদপুর প্রেসক্লাব, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদসহ জেলার বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। এ ছাড়া স্থানীয় আনসার উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও কবির সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত এক আলোচনা সভায় বক্তারা পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের জীবন, কালজয়ী সাহিত্যকর্ম, গ্রামীণ জীবনচিত্র এবং সুমহান মানবিক মূল্যবোধের ওপর বিস্তারিত আলোকপাত করেন। বক্তারা বলেন, "বাংলা সাহিত্যে গ্রামীণ জীবনের সহজ-সরল সৌন্দর্য, সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, অবিলল প্রেম-বিরহ ও আবহমান বাংলার সংস্কৃতিকে কবিতার চরণে চরণে জীবন্ত করে তুলেছিলেন কবি জসীমউদ্দীন। তাঁর কালজয়ী সাহিত্যকর্ম বর্তমান ও নতুন প্রজন্মের জন্য আজও এক পরম অনুপ্রেরণার উৎস।"
আরও পড়ুন
জানুন বিশ্বজুড়ে নারীর আত্মবিশ্বাসের অনন্য প্রতীক কি
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্যা, প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সাহিত্যিক মফিজ ইমাম মিলন, শিক্ষাবিদ এম এ সামাদ এবং ফরিদপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এ এফ এম কাইউম জঙ্গি। বক্তারা দেশের নতুন প্রজন্মকে কবির আদর্শ, জীবন ও সাহিত্য থেকে শিক্ষা নেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।
এ সময় জসীম ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের সামগ্রিক জীবন ও সাহিত্য নিয়ে ‘মৃত্যুঞ্জয় কবি’ নামে একটি বিশেষ গ্রন্থ প্রকাশের জোর প্রস্তুতি চলছে। বইটি খুব দ্রুত প্রকাশিত হলে নতুন প্রজন্ম কবির জীবন, দর্শন ও নিখাদ সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে আরও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জানার সুযোগ পাবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে পল্লীকবির রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন আনসার উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল আউয়াল। এ সময় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিপুল সংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।





.jpg)












আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।