শিরোনাম LIVE
২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: কারণ জানতে সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডাকল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু নিয়ে যা জানা গেল ১ লাখ ইয়েমেনি সেনার সমন্বয়ে হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযানের পরিকল্পনা সৌদির, সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ সেনাবাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুরে নেওয়া হচ্ছে ইউরেনিয়ামের বিশেষ চালান ১০০ জনকে পার্টটাইম চাকরি দেবে আড়ং, লাগবে না অভিজ্ঞতা এমপি পদ থেকে মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর চাকরিতে যোগ দিলেন অভিনেত্রী তমা মির্জা বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নেবে মিয়ানমার: আনোয়ার ইব্রাহিম ফেসবুকে আসছে বিনামূল্যের ভেরিফায়েড ব্যাজ পদত্যাগের পর যে বার্তা দিলেন মোদির অনুগত শিক্ষামন্ত্রী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ, দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই পরীক্ষা স্থগিত তাসকিনই এনে দিলেন দ্বিতীয় উইকেট, চাপে জিম্বাবুয়ে নারায়ণগঞ্জে ছিনতাইকারী সন্দেহে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যা বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ মোমেন্ট অব দ্য ডে ৬ পদে মোট ৭৩১ জনকে নিয়োগ দেবে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর সার্টিফিকেটে নাম ও জন্ম তারিখ সংশোধন নিয়ে জরুরি নির্দেশনা বোর্ডের বাংলাদেশ থেকে খামেনির শেষবিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইরান গেলেন যারা স্টেডিয়াম সংস্কারে ২৫০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প. বালু উত্তোলন ও মাটি কাটায় দক্ষিণাঞ্চলে নদীভাঙনের তীব্র আতঙ্ক

শান্তিতে নোবেল জেতার পরই প্রকাশ্যে মারিয়া মাচাদোর ‘অন্ধকার দিক’ ট্রাম্পকে উৎসর্গ, বিতর্কে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়

শেয়ার
শান্তিতে নোবেল জেতার পরই প্রকাশ্যে মারিয়া মাচাদোর ‘অন্ধকার দিক’ ট্রাম্পকে উৎসর্গ, বিতর্কে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়

শান্তিতে নোবেল জেতার মাত্র একদিন পরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন ভেনেজুয়েলার সাবেক বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। তবে আলোচনার বিষয় তার অর্জন নয়—বরং তার রাজনৈতিক অতীত, বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

নরওয়ের নোবেল কমিটি শুক্রবার (১০ অক্টোবর) ২০২৫ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে মাচাদোর নাম ঘোষণা করে। কিন্তু পুরস্কার জয়ের পরপরই তিনি সেটি উৎসর্গ করেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে, যা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১১ অক্টোবর) জর্ডানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রোয়া নিউজ এবং বিবিসি-এর প্রতিবেদনে মাচাদোর অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা তথ্য প্রকাশিত হয়।

বিবিসি জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকেই মাচাদোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি আত্মগোপনে থেকে ভেনেজুয়েলার সরকারের বিরুদ্ধে বিদেশি সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেছিলেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাকে “স্থিতিস্থাপকতা, দৃঢ়তা ও দেশপ্রেমের প্রতীক” বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফা বিধ্বংসী বিমান হামলা আন্তর্জাতিক · ২৮.০৬.২০২৬

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রশংসার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক বিতর্কিত ইতিহাস। ‘কোডপিংক’-এর লাতিন আমেরিকা ক্যাম্পেইন কো-অর্ডিনেটর মিচেল এলনার, যিনি নিজেও ভেনেজুয়েলার নাগরিক, নোবেল ঘোষণার পর এক কলামে লিখেছেন—

“মারিয়ার মতো ডানপন্থিরা যখন শান্তিতে নোবেল জেতে, তখন শান্তির আসলে কোনো অর্থ থাকে না।”

তিনি উল্লেখ করেন, মাচাদো ২০০২ সালে ভেনেজুয়েলায় সংঘটিত সামরিক অভ্যুত্থানে সরাসরি সহায়তা করেছিলেন, যার ফলে নির্বাচিত সরকার সাময়িকভাবে উৎখাত হয়েছিল। তিনি ‘কারামোনা ডিক্রি’-তে স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে সংবিধান ও সব সরকারি প্রতিষ্ঠান বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

মিচেল এলনারের দাবি অনুযায়ী, মাচাদো প্রকাশ্যেই ভেনেজুয়েলা সরকারের পতনে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা কামনা করেছেন। এমনকি তিনি বিদেশি সেনা হস্তক্ষেপেরও আহ্বান জানিয়েছিলেন, যাতে দেশটিকে “স্বাধীন” করা যায়।

শুধু তাই নয়, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেওয়া সামরিক হামলার হুমকিকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছিলেন। ক্যারিবিয়ান সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনকেও তিনি “গর্বের সঙ্গে স্বাগত” জানিয়েছিলেন।

মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছিলেন, ভেনেজুয়েলার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে। অথচ এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ভুগেছে দেশের সাধারণ মানুষ—বিশেষত গরিব, অসুস্থ ও শ্রমজীবী শ্রেণি।

এছাড়া তিনি ইসরায়েলের প্রকাশ্য সমর্থক। শান্তিতে নোবেল জয়ের পরপরই এক ইসরায়েলি টিভি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,

“আমি প্রেসিডেন্ট হলে আমাদের দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তর করব।”

২০১৮ সালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছে এক চিঠিতে তিনি ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলার আহ্বান জানান—যাতে মাদুরো সরকারকে উৎখাত করা যায়।

২০১৪ সালে মাচাদো নেতৃত্ব দেন ‘লা সালিদা’ নামে এক আন্দোলনে। পশ্চিমা গণমাধ্যম আন্দোলনটিকে “শান্তিপূর্ণ” বললেও বাস্তবে তা ছিল সহিংস। সরকারি স্থাপনা, গণপরিবহন ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে সেই আন্দোলনের সময়।

বর্তমানে মাচাদো ভেনেজুয়েলার তেল, পানি ও অবকাঠামো বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছেন, যা অর্থনীতিবিদদের মতে দেশের সামাজিক বৈষম্য আরও বাড়াবে।

শান্তিতে নোবেল জয়ের পর মাচাদো যখন পুরস্কারটি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেন, তখন বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেক মানবাধিকারকর্মী ও বিশ্লেষক বলেন, এমন একজন নেত্রীকে শান্তির প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া নোবেল কমিটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।

ভেনেজুয়েলার নাগরিকদের একাংশও প্রশ্ন তুলেছেন—যিনি নিজ দেশের জনগণের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করেছেন, বিদেশি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন, তার হাতে শান্তির প্রতীক কীভাবে যায়?

নোবেল পুরস্কার সাধারণত মানবতা, শান্তি ও ন্যায়ের সংগ্রামীদের দেওয়া হয়। কিন্তু মারিয়া কোরিনা মাচাদোর অতীত ও রাজনৈতিক অবস্থান এখন আন্তর্জাতিক আলোচনার বিষয়। তিনি শান্তির প্রতীক, নাকি রাজনীতির এক বিতর্কিত চরিত্র—সে প্রশ্ন এখন বিশ্বজুড়ে আলোচিত

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
NN
লেখক সম্পর্কে No Name টাইমস নিউজ ২৪
পরবর্তী খবরমেক্সিকোতে এক সপ্তাহের ভারী বৃষ্টিপাতে ২৩ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো ঘরবাড়ি।

আপনার প্রতিক্রিয়া

মন্তব্য করতে লগইন করুন

এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।

আন্তর্জাতিক থেকে আরও

বিভাগ দেখুন →
Times News 24
Total Visitors
—
Today: —