চলমান ফিফা বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘জে’ (Group J)-এর হাইভোল্টেজ দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফেরা ইউরোপের পরাশক্তি অস্ট্রিয়া। আগামীকাল বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হতে যাওয়া এই মহারণকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই স্নায়ুযুদ্ধ ও রণকৌশল সাজাতে শুরু করেছে দুই শিবির। তবে এই হেভিওয়েট লড়াইয়ের দুদিন আগে ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আলবিসেলেস্তেদের পাশাপাশি ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসিকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখ ও অস্ট্রিয়া দলের অন্যতম প্রাণভোমরা কনরাড লাইমার। একই সাথে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের রুখে দিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই শেষ ৩২ বা নকআউট পর্ব নিশ্চিত করার প্রচ্ছন্ন হুংকারও দিয়ে রেখেছেন এই মিডফিল্ডার।
মেসিকে সেরা মেনেও অঘটনের ইঙ্গিত: সাক্ষাৎকারে ২৮ বছর বয়সী লাইমার স্পষ্ট করে বলেন, ‘আর্জেন্টিনা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, তাই তারাই বর্তমানের সেরা দল। আর লিওনেল মেসি হচ্ছে ফুটবল বিশ্বের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়। তার মতো মাপের বিশ্বমানের ফুটবলারদের মুখোমুখি হওয়া এবং নিজেদের শক্তি যাচাই করা সবসময়ই দারুণ রোমাঞ্চের। কারণ এই ম্যাচেই বোঝা যাবে বিশ্বমঞ্চে আমরা আসলে কোন অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছি।’ তবে আর্জেন্টিনাকে সমীহ করলেও নিজেদের আন্ডারডগ হিসেবে ছেড়ে দিতে রাজি নন লাইমার। তিনি যোগ করেন, ‘আর্জেন্টিনা অনেক মানসম্পন্ন এবং একটি বিশেষ দল হলেও আমরা আমাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দেখাতে চাই। তবে গ্রুপ পর্ব পার হতে হলে বাকি দুটি ম্যাচই আমাদের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।’
রাংনিকের প্রেসিং ফুটবল ও অস্ট্রিয়ার আত্মবিশ্বাস: নিজেদের প্রথম ম্যাচে জর্ডানকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে অস্ট্রিয়া ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপে তাদের রাজকীয় সূচনা করেছে। এই দুর্দান্ত জয়ের পর তারা খুব ভালো করেই জানে, গ্রুপ পর্বের বাকি দুই ম্যাচের যেকোনো একটিতে ড্র বা জয় পেলেই তাদের নকআউট টিকিট নিশ্চিত হয়ে যাবে। কাগজে-কলমে অস্ট্রিয়াকে ইউরোপের প্রথাগত জায়ান্ট মনে করা না হলেও, মাস্টারমাইন্ড কোচ রাল্ফ রাংনিকের (Ralf Rangnick) অধীনে দলটি যেকোনো বড় অঘটন ঘটাতে পারে বলে বিশ্বাস লাইমারের। তিনি বলেন, ‘আমাদের এই দলের মূল শক্তি হলো আমরা একটি সত্যিকারের ‘টিম’। সবাই জাতীয় দলের হয়ে নিজেদের উজাড় করে দিতে চায়, যা মাঠে আমাদের শরীরী ভাষায় স্পষ্ট ফুটে ওঠে। আমাদের কোচের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও গ্যাগেনপ্রেসিং খেলার ধরণ রয়েছে, যা দিয়ে যেকোনো প্রতিপক্ষকে বোকা বানানো সম্ভব। আমরা এখন দারুণ ছন্দে আছি।’
আরও পড়ুন
ফুটবলকে যিনি ঋণী করেছেন, আজ তার ৩৯তম জন্মদিন
অস্ট্রিয়া সর্বশেষ ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে খেলেছিল। দীর্ঘ ২৮ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে দল এবার সুযোগ পাওয়ায় এবং নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ হওয়ায় রোমাঞ্চ ছুঁয়ে যাচ্ছে লাইমারকে। ডেভিড আলাবা, মার্সেল সাবিৎজার এবং মার্কো আরনোটোভিচের মতো অভিজ্ঞ তারকাদের নিয়ে গঠিত অস্ট্রিয়ার এই শক্তিশালী স্কোয়াডটি মূলত তাদের ট্রেডমার্ক ‘আগ্রাসী প্রেসিং’ এবং দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাকিং ফুটবল খেলে আর্জেন্টিনাকে চমকে দিতে চায়। এখন দেখার বিষয়, মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইউরোপীয় এই কৌশলে রাংনিকের শিষ্যরা কতটা সফল হতে পারে।





.jpg)











আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের জন্য লগইন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিমালামন্তব্য করতে লগইন করুন
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্য করুন।